ঢাকাসোমবার , ১৬ ডিসেম্বর ২০২৪
  • অন্যান্য

মহান বিজয় দিবস আজ

জয়পত্র ডেস্কঃ
ডিসেম্বর ১৬, ২০২৪ ৪:৩৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

জয়পত্র ডেষ্ক ।।
‘নতুন নিশান উড়িয়ে, দামামা বাজিয়ে দিগি¦দিক/এই বাংলায়/তোমাকে আসতেই হবে, হে স্বাধীনতা।’ কবি শামসুর রাহমানের কবিতার পঙক্তির মতো ৫৩ বছর আগে একসাগর রক্তের বিনিময়ে স্বাধীনতা এসেছিল এ বাংলায়।
১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাঙালি জাতি পেয়েছিল লাল-সবুজের পতাকা ও স্বাধীন-সার্বভৌম একটি দেশ। সেই মহান বিজয় দিবস আজ। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর নতুন এক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এবার মহান বিজয় দিবস পালন করছে জাতি। ছাত্র-শ্রমিক-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এক বাণীতে বলেছেন, একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও সুশাসিত বাংলাদেশ গঠনে সবাই মিলে একসঙ্গে কাজ করায় অঙ্গীকারবদ্ধ অন্তর্বর্তী সরকার।
আজ ১৬ ডিসেম্বর, মহান বিজয় দিবস। বিজয়ের ৫৩ বছর পেরিয়ে এসেছে জাতি। মুক্তিযুদ্ধে বিজয় বাঙালির হাজার বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে গৌরব ও অহংকারের দিন। দীর্ঘ ৯ মাস বিভীষিকাময় সময়ের পরিসমাপ্তির দিন। লাখ লাখ বীর মুক্তিযোদ্ধার রক্তস্রোত, স্বামী-সন্তানহারা নারীর অশ্রুধারা, দেশের শ্রেষ্ঠসন্তান বুদ্ধিজীবীদের হত্যা আর বীরাঙ্গনাদের সীমাহীন ত্যাগের বিনিময়ে ৯ মাসের যুদ্ধ শেষে অর্জিত হয়েছিল মহান এ বিজয়। ৫৩ বছর আগে এই দিন বিশ্বের মানচিত্রে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয় বাঙালি জাতিকে এনে দিয়েছিল আত্মপরিচয়ের ঠিকানা।
ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইলের দেশ ৫৩ বছর আগে পেয়েছিল নতুন এক সূর্য। সেই সূর্যকিরণে লেগে ছিল রক্ত দিয়ে অর্জিত বিজয়ের রং। সেই রক্তের রং সবুজ বাংলায় মিশে তৈরি করেছিল বাংলার লাল-সবুজ পতাকা। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে (তৎকালীন রেসকোর্স) শেখ মুজিবুর রহমান একাত্তরের ৭ মার্চ ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’ বলে জাতিকে লড়াইয়ের ডাক দিয়েছিলেন, সেই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানেই পরাজয় মেনে নিয়ে মাথা নত করে ৯৩ হাজার পাকিস্তানি সৈন্য অস্ত্র সমর্পণ করেছিল বাঙালি জাতির বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে।
শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ১৯৪৮ সাল থেকে ৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ৬৬-এর ছয় দফা, ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭১-এর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ, ২৫ মার্চে গণহত্যা শুরু হলে ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে স্বাধীনতার ঘোষণা, ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠন এবং রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে ৩০ লাখ শহীদ ও ২ লাখ মা-বোনের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয় স্বাধীনতা। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি সেনাদের আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়। সেই হিসাবে বিজয়ের ৫৩ বছর পূর্তির দিন আজ। স্বাধীন বাংলাদেশ আজ পা রেখেছে ৫৪ বছরে।
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে দেশ ও প্রবাসের সব বাংলাদেশিকে বিজয়ের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। বিজয় দিবস উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেন, লাখো শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার সুফল জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোকে নিজেদের মধ্যে পরমতসহিষ্ণুতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্য ও চেতনা বাস্তবায়নে নিজ নিজ অবস্থান থেকে আরো বেশি অবদান রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশ ও জাতিকে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে আরো এগিয়ে নিয়ে যাই, গড়ে তুলি স্বপ্নের ‘সোনার বাংলা’। বিজয় দিবস উপলক্ষে এক বাণীতে অন্তর্বর্তী
সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, দেশকে আরো উন্নত ও শক্তিশালী করতে এবং স্বাধীনতার পূর্ণ সুফল ভোগ করতে আমরা বদ্ধপরিকর। তিনি বলেন, ‘১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস। দিনটি বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি অত্যন্ত গৌরবময় এবং স্মরণীয় দিন। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের মাধ্যমে আমরা অর্জন করি স্বাধীনতার স্বাদ এবং জাতি হিসেবে নিজস্ব পরিচিতি। লাখ লাখ শহীদের রক্ত ও ত্যাগের বিনিময়ে আমরা পেয়ে যাই আমাদের কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা।’
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘বিজয় দিবস শুধু আমাদের গর্বের উৎস নয়, এটি আমাদের শপথের দিনও। শপথ আমাদের একতাবদ্ধ থাকার, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করার।’ ড. ইউনূস বলেন, ‘আজকের এই দিনে আমাদের স্বাধীনতা-সংগ্রামের বীর শহীদদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি এবং তাদের আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানাই। ছাত্র-শ্রমিক-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার একটি উন্নত, সমৃদ্ধ এবং সুশাসিত বাংলাদেশ গঠনে সবাই মিলে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার করছে।’
কৃতজ্ঞ জাতি সশ্রদ্ধ বেদনায় স্মরণ করবে দেশের বীর সন্তানদের। সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে জনতার ঢল নামবে। রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের সব প্রান্তের মানুষ অংশ নেবে বিজয় দিবসে। এদিকে সাভারে জাতির শ্রেষ্ঠসন্তানদের শ্রদ্ধা জানাতে প্রস্তুত জাতীয় স্মৃতিসৌধ। এ স্মৃতিসৌধ আপামর জনসাধারণের বীরত্বপূর্ণ লড়াইয়ের স্মরণে নিবেদিত এবং শহীদদের প্রতি কৃতজ্ঞতাপাশে আবদ্ধ জাতির শ্রদ্ধার্ঘ্যরে উজ্জ্বল নিদর্শনস্বরূপ। তাই বিজয় উৎসবের শুরুতে আজ সোমবার শীতের সকালে পরম শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় ফুলের অর্ঘ্য নিয়ে স্মৃতিসৌধ বেদিতে আসবেন সবাই।