ঢাকাশনিবার , ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • অন্যান্য
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ঈশ্বরদীর ভবানীপুরে আলোচিত দাদি-নাতনি হত্যা কান্ডে আটক দুই

জয়পত্র ডেস্কঃ
ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬ ৭:০৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

নিজস্ব প্রতিনিধি ।। ঈশ্বরদী থানার দাশুড়িয়া ইউনিয়নের উত্তর ভাবনীপুর গ্রামে দাদি-নাতনির হত্যার ১২ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো রহস্য বা কারণ জানা যায়নি। এলাকার লোকজন এ বিষয়ে কেউ মুখ খুলছে না। এ ঘটনায় পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুজনকে আটক করেছে । আটককৃতরা হলেন- একই এলাকার নুরুল মন্ডলের ছেলে রাব্বি মন্ডল এবং মফেজ্জল হোসেনের ছেলে শরিফুল ইসলাম। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মমিনুজ্জামান।
রাজশাহী বিভাগীয় এডিশনাল ডিআইজি (ক্রাইম) শামীম আহমেদ,পাবনা পুলিশ সুপার মোঃ আনোয়ার জাহিদসহ পুলিশের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ঘটনাস্থলে র্যা ব,ডিবি,পিবিআই,সিআইডিসহ গোয়েন্দা শাখার পুলিশের বেশ কয়েকটি টিম তদন্তের কাজ শুরু করেছে।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টায় পুলিশ পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার দাশুড়িয়া ইউনিয়নের ভবানিপুর উত্তরপাড়া জয়নাল খাঁর মা সুফিয়া খাতুন (৬৫) ও মেয়ে জামিলা আক্তারের (১৫) মরদেহ উদ্ধার করে। স্থানীয় বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন জানান, মধ্যরাতে হঠাৎ কান্নাকাটির আওয়াজ শুনে রাস্তায় বের হন স্থানীয়রা৷ পরে কান্নার আওয়াজ থেমে গেলে সবাই বাড়িতে চলে যান। শনিবার সকাল ৮টার দিকে একজন প্রতিবেশী তার বাড়িতে গেলে উঠানে সুফিয়া খাতুনের রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পান।
তিনি আরও জানান, এক পর্যায়ে জামিলাকে খোঁজাখুঁজির পর বিবস্ত্র অবস্থায় সরিষার ক্ষেতে মরদেহ পাওয়া যায়। ওই বাড়িতে শুধুমাত্র দাদি আর নাতনি ছিল রাতে। বাড়ির একমাত্র পুরুষ জামিলার বাবা জয়নাল খাঁ এক সপ্তাহ ধরে বাড়িতে নেই। জানা গেছে,কিশোরীর বাবা ঢাকায় কর্মরত রয়েছে । আর জামিলার মা অন্যত্র বিয়ে করে চলে গেছে। কাজেই কে বা কারা এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত তা বোঝা যাচ্ছে না।
ফাতেমা খাতুন নামে স্থানীয় এক গৃহবধূ বলেন,বাড়ির উঠানে দাদি সুফিয়া খাতুনের রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে ছিল। মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। জামিলার শরীরের কপাল,মাথা,গলাসহ বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। তাকে বিবস্ত্র করে রেললাইনের পাশে সরিষা ক্ষেতে ফেলে রাখা হয়। জামিলা পাশের দিকশাইল কারিমিয়া কওমিয়া মহিলা মাদরাসায় হাফেজিয়া পড়তো। সেখান থেকে পরে কালিকাপুর দাখিল মাদরাসায় ভর্তি হয়। সেখানে দশম শ্রেণিতে অধ্যায়রত ছিল। রোজা শুরুর পর থেকে আশেপাশের নারীদের জামিলা খাতুন তাদের বাড়িতে তারাবি নামাজ পড়াতেন। শুক্রবার রাতেও এলাকার মহিলাদের নামাজ পড়ান জামিলা।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা,নাতনিকে তুলে নিতে গেলে বাধা দেওয়ায় দাদিকে হত্যা করা হতে পারে। এরপর কিশোরীকে পাশবিক নির্যাতনের পর হত্যা করে মরদেহ ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা।
ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার জানিয়েছেন, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।