নিজস্ব প্রতিনিধি ।। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব ও দুর্নীতিমুক্ত সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাই জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির মূল লক্ষ্য। জনগণের রায় পেলে সৎ, যোগ্য ও আধিপত্যবাদবিরোধী জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে ইনসাফ, ন্যায় ও মানবিক কল্যাণভিত্তিক সরকার গঠন করা হবে।
বৃহস্পতিবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজ মাঠে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পাবনা জেলা শাখার আয়োজনে অনুষ্ঠিত বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে কেউ চাঁদাবাজির শিকার হবে না, দুর্নীতির কারণে কেউ ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে না। রাষ্ট্র হবে জনগণের সেবক, জনগণের ওপর শাসক নয়।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা কারও চোখ রাঙানিতে ভয় পাই না। আমরা শুধুমাত্র আল্লাহকেই ভয় করি। সকল মানুষকে সঙ্গে নিয়ে নতুনভাবে দেশ গড়ার স্বপ্ন দেখছি।”অতীতের রাজনৈতিক বাস্তবতা তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, হাজার হাজার নেতাকর্মীকে ঠান্ডা মাথায় হত্যা করে দেশে ফ্যাসিবাদ কায়েম করা হয়েছিল। মানুষের কথা বলার অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। আগামী দিনে কোনোভাবেই এই ফ্যাসিবাদ ফিরে আসতে দেওয়া হবে না।
তিনি বলেন, দেশের মানুষ এখন পরিবর্তন চায়। তারা চাঁদাবাজ, দখলদার ও দুর্নীতিবাজ রাজনীতিকে আর গ্রহণ করবে না। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিয়ে ফ্যাসিবাদমুক্ত ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গড়তে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এ দেশে মুক্তিকামী জনতার উত্থান দেখে কেউ কেউ ফুসফাস করছে। তিনি বলেন, “তোমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে আমরা নাক গলাবো না, আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে তোমরাও নাক গলাবে না। আমাদের বিষয়ে অনেক নাক গলিয়েছ।”
ফ্যাসিবাদের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, জামায়াতের ১১ জন কেন্দ্রীয় নেতাকে কারাগারে ঠান্ডা মাথায় হত্যা করা হয়েছে। আমীরে জামায়াত শহীদ মতিউর রহমান নিজামী ও পাঁচবারের এমপি মাওলানা আব্দুস সোবহানকেও কারাগারের ভেতরে হত্যা করা হয়েছে। তাদের যে আকাঙ্ক্ষা ছিল, জামায়াতে ইসলামী সেই পথেই এগিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, “আপনারা মজলুম ছিলেন, জালিমের ভূমিকায় যাবেন না। আমরা কখনো চাঁদাবাজি করিনি, মামলা বাণিজ্য করিনি, দুর্নীতি করিনি। সাড়ে তিন কোটি কর্মীর এই সংগঠন আল্লাহর দয়া ছাড়া কেউ টিকিয়ে রাখতে পারত না।”
ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, জামায়াতের এক হাজারের বেশি কর্মীকে হত্যা এবং সাত শতাধিক নেতাকর্মীকে গুম করা হয়েছে। বছরের পর বছর দলীয় অফিস বন্ধ ছিল, নেতাদের বাড়িঘর বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তবুও জামায়াতে ইসলামী প্রতিশোধের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না।
চাঁদাবাজি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার গঠন করতে পারলে চাঁদাবাজদের হাত চিরতরে বন্ধ করে দেওয়া হবে। কাউকে মিথ্যা মামলায় জড়ানো হবে না। মানুষের জন্য সম্মানজনক ও হালাল রুজির ব্যবস্থা করা হবে। একই সঙ্গে সবার জন্য সমান আইন নিশ্চিত করা হবে। আধিপত্যবাদ ও বস্তাপচা রাজনীতিকে লালকার্ড দেখাতে হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
পাবনা জেলা জামায়াতের আমির ও পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ বিশাল জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান,ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ,সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার সিরাজুল ইসলাম, জামায়াতের বগুড়া অঞ্চল টিম সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম,পাবনা জেলা নায়েবে আমির মাওলানা জহুরুল ইসলাম খান, জেলা নায়েবে আমির ও পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী অধ্যক্ষ ইকবাল হোসাইন, পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ডক্টর ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন, পাবনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মাওলানা আলী আজগার, পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী কে এম হেসাব উদ্দিনসহ স্থানীয় বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল বলেন, দেশের মানুষ ফ্যাসিবাদ ও চাঁদাবাজ রাজনীতিকে প্রত্যাখ্যান করেছে। আগামী নির্বাচনে ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে দাঁড়িপাল্লার বিজয় নিশ্চিত করে শোষণ ও দুর্নীতিমুক্ত ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা হবে—ইনশাল্লাহ।
জনসভা সঞ্চালনা করেন পাবনা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা অধ্যাপক আব্দুল গাফফার খান, সহকারী সেক্রেটারি আবু সালেহ মো. আব্দুল্লাহ ও এস এম সোহেল। বিকেল থেকে শুরু হয়ে রাত ৯টা পর্যন্ত চলা এই জনসভায় বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
