টানা দেড় দশকের স্থবিরতা কাটিয়ে অবশেষে দেশজুড়ে শুরু হলো ভোটের আসল উৎসব। বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে রাজপথে নামছেন প্রার্থীরা। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লায় এখন একটাই আলোচনা— ‘ভোট আসছে’। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে দীর্ঘ ১৮ বছর পর এক প্রাণবন্ত ও মুক্ত পরিবেশে প্রচারণায় নামছে দেশের সব রাজনৈতিক দল।
প্রচারণার শুরু ও শীর্ষ নেতাদের কর্মসূচি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আজ সিলেটে হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করবেন। অন্যদিকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানও আজ থেকে দেশব্যাপী নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেবেন; দলটি আধুনিক ও ইনসাফ কায়েমের স্লোগান নিয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাওয়ার কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।
আচরণবিধিতে কঠোর কমিশন তফসিল ঘোষণার পর থেকে আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে রয়েছে। ইতোমধ্যে ৭৫ জন প্রার্থীকে শোকজ ও সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে এবং ৭ জনকে সামারি ট্রায়ালের মাধ্যমে জরিমানা করা হয়েছে। নির্বাচনী মাঠে সার্বক্ষণিক তদারকিতে রয়েছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ইলেকটোরাল ইনকোয়ারী কমিটির সদস্যরা। প্রতিদিন দুপুর ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মাইকিং করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচনী পরিসংখ্যান ও অংশগ্রহণ বিগত ১৫ বছর আওয়ামী শাসনামলে একতরফা নির্বাচনের কারণে ভোটার ও প্রার্থীদের মধ্যে যে অনীহা ছিল, এবার তার উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে। বিএনপি-জামায়াতসহ মোট ৪৯টি দল ও বিপুল সংখ্যক স্বতন্ত্র প্রার্থী এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ২৯৮টি (বাকি ২টিতে আইনি জটিলতা)। মোট প্রার্থী: ১৯৭২ জন। ভোটকেন্দ্র ও ভোটার তথ্য নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্যমতে, ১২ কোটি ৭৭ লাখ ২৪ হাজার ৭১৮ জন ভোটার এবার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ৪২,৭৮৯টি, যার মধ্যে ১৩টি অস্থায়ী কেন্দ্র রয়েছে। ভোটকক্ষ ও গোপন কক্ষের সংখ্যা যথাক্রমে ২,৪৭,৪৮২টি এবং ৪,৩১,২০৮টি।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ব্যালট পেপারের মাধ্যমে এই বৃহৎ কর্মযজ্ঞ বা ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ সময় পর সব দলের অংশগ্রহণে এই নির্বাচন দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।
