বিশ্বব্যাপী এলপি গ্যাস রপ্তানিকারক ও পরিবহণ জাহাজগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞার ফলে এলপিজি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এলওএবি) আয়োজিত ‘রেগুলেটরি চ্যালেঞ্জেস ইন দ্য এলপিজি মার্কেট’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি একথা বলেন।
সিরডাপ মিলনায়তনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, আন্তর্জাতিক সংকটের কারণে জ্বালানি আমদানি কমেছে। আবার ইরান থেকে কোনো জ্বালানি বের হচ্ছে না। এলপিজির বড় ক্রেতারা চায়না ও অন্যান্য উৎসে হুমড়ি খেয়ে পড়ায় ছোট ব্যবসায়ীরা সেখানে সুযোগ পাচ্ছেন না।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তৃতা করেন কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি এএইচএম শফিকুজ্জামান, প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আইইউবির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. তামিম।
চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, ১০ জানুয়ারি বিপিসি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আহসান উল ইসলাম স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, সরকারি পর্যায়ে এলপিজি আমদানি করা হলে এই খাতে সংকট সামাল দেওয়া সম্ভব হবে। ওই চিঠির বিষয়ে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় তৎপরতা শুরু করেছে বলে জানা গেছে।
এলপিজির সাম্প্রতিক সংকট ও বিপিসির চিঠি প্রসঙ্গে এলপিজি অপারেটর্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (লোয়াব) প্রেসিডেন্ট আমিরুল হক যুগান্তরকে বলেন, দেশে এলপিজির যে সংকট তা তৈরি হয়েছে বৈশ্বিক কারণে। সাম্প্রতিক সময়ে ১৩০টি জাহাজকে স্যাংশন বা নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। তাই এলপিজি আমদানিতে সংকট তৈরি হয়েছে। চায়নাসহ অন্য ধনী দেশগুলো বেশি দাম বা ভাড়া দিয়ে ভিন্ন উৎস থেকে এলপিজি সংগ্রহ এবং পরিবহণ করছে। কিন্তু বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতায় তা সম্ভব হচ্ছে না। বিপিসির চিঠির বিষয়ে সাধুবাদ জানান তিনি।
রাজশাহী ব্যুরো জানায়, রাজশাহী জেলা ও মহানগরী মিলে ৭ লাখ ৭৬ হাজার ২৪৫ পরিবার বসবাস করে। তাদের দৈনিক এলপি গ্যাস সিলিন্ডারের চাহিদা ৩৫ থেকে ৪০ হাজার। তিন সপ্তাহ ধরে এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহ হচ্ছে মোট চাহিদার ৫ ভাগের এক ভাগ। বেশি দামেও কোথাও মিলছে না গ্যাস। সিলিন্ডার পেতে এক সপ্তাহ আগে দোকানিকে অর্ডার দিতে হচ্ছে। তারপরও গুনতে হচ্ছে দ্বিগুণ দাম। অনেকের রান্নাঘরের গ্যাস শেষ হয়েছে। কিন্তু দোকানে সিলিন্ডার পাচ্ছেন না।
ভুক্তভোগীরা বলছেন, এমন পরিস্থিতি অসহনীয়। কবে নাগাদ সংকট কাটবে তা কেউই বলতে পারছে না।
ভুক্তভোগী ক্রেতা, খুচরা বিক্রেতা ও এলপিজি সিলিন্ডারের ডিলার এজেন্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকেই রাজশাহী অঞ্চলের এলপি গ্যাস সিলিন্ডারের সংকট তৈরি হয়। দাম বাড়বে এমন অজুহাতে কোম্পানিগুলো ডিলার ও এজেন্টদের সিলিন্ডার সরবরাহ কমিয়ে অর্ধেকে নামিয়ে আনে।
