ঢাকাশুক্রবার , ৯ জানুয়ারি ২০২৬
  • অন্যান্য
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বিশ্বে আরেক অস্থিরতার জন্ম দিচ্ছেন ট্রাম্প

জয়পত্র ডেস্কঃ
জানুয়ারি ৯, ২০২৬ ৪:১৪ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

জাতিসংঘ সংশ্লিষ্ট ৩১টি সংস্থাসহ আন্তর্জাতিক ৬৬টি সংস্থা, জোট ও চুক্তি থেকে সরে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এর মাধ্যমে বৈশি^ক জলবায়ু, শ্রম, শিক্ষা, অভিবাসন এবং গণতন্ত্র ও নির্বাচনী সহযোগিতা, এমনকি সামাজিক নীতিনির্ধারণ সংক্রান্ত বহু সংস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা বন্ধ হতে যাচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের দাবি, সংস্থাগুলো অকার্যকর এবং এতে থাকাটা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর ও আর্থিক অপচয়। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বুধবার এ তথ্য জানানো হয়েছে। যদিও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য বৈশি^ক সম্পৃক্ততা থেকে সরে যাওয়াটা নতুন নয়। এর আগে প্যারিস জলবায়ু চুক্তি, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এবং ইউনেসকো থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নিয়েছিলেন ট্রাম্প। আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ইউএসএইডের মাধ্যমে বড় পরিসরে বিদেশি সহায়তাও কমিয়ে দিয়েছে তার প্রশাসন। ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের সহায়তাকারী সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএসহ বিভিন্ন জাতিসংঘ সংস্থার তহবিল কমিয়ে দেওয়া হয়। ট্রাম্পের এসব পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের বহুপক্ষীয় কূটনীতি ও বৈশ্বিক সহযোগিতায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এতে বিশ্বব্যাপী জলবায়ু, মানবাধিকার ও উন্নয়ন খাতে দীর্ঘমেয়াদে তৈরি হতে পারে চরম অস্থিরতা। হোয়াইট হাউস বুধবার এক বিজ্ঞপ্তিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একটি প্রেসিডেনশিয়াল মেমোরেন্ডামে সই করেছেন, যার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে জলবায়ু চুক্তিসহ মোট ৬৬টি আন্তর্জাতিক সংস্থা ও চুক্তি থেকে বের করে আনা হচ্ছে। এসব সংস্থা ও চুক্তি নাকি আর যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে কাজ করছে না। এর মধ্যে প্রায় অর্ধেকই জাতিসংঘসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান।
হোয়াইট হাউসের ওয়েবসাইটে ৬৬টি সংস্থার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এর মধ্যে আছে জলবায়ু, শিক্ষা, বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদ দমন, অভিবাসন উন্নয়ন ফোরাম এবং গণতন্ত্র ও নির্বাচনী সহযোগিতামূলক সংস্থা। এগুলোর মধ্যে জাতিসংঘের নাম সংবলিত অঙ্গ সংস্থার সংখ্যা ১৭টি।
জাতিসংঘের নাম সংবলিত ১৭টি অঙ্গ সংস্থার মধ্যে আছে, ইউএন ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল কাউন্সিল, ইউএন অ্যালায়েন্স অব সিভিলাইজেশনস, ইউএন কলাবোরেটিভ প্রোগ্রাম অন রিডিউসিং এমিশনস ফ্রম ডিফরেস্টেশন অ্যান্ড ফরেস্ট ডিগ্রেডেশন ইন ডেভেলপিং কান্ট্রিস, ইউএন কনফারেন্স অন ট্রেড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, ইউএন ডেমোক্রেসি ফান্ড, ইউএন এনার্জি, ইউএন হিউম্যান সেটেলমেন্টস প্রোগ্রাম, ইউএন ওশেনস, ইউএন পপুলেশন ফান্ড, ইউএন ওয়াটার, আন্তর্জাতিক জলবায়ু প্যানেল (আইপিসিসি), জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন (ইউএনএফসিসিসি), আন্তর্জাতিক নবায়নযোগ্য জ্বালানি সংস্থা (আইরেনা), আন্তর্জাতিক অভিবাসন ও উন্নয়ন ফোরাম, ইউএন উইমেন এবং ইউএন ইউনিভার্সিটিসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ জাতিসংঘ সংস্থা ও প্ল্যাটফর্ম।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, এসব সংস্থা অব্যবস্থাপনায় জর্জরিত। অনেক ক্ষেত্রে এগুলো এমন পক্ষের স্বার্থ দ্বারা প্রভাবিত যারা যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের পরিপন্থি নিজস্ব এজেন্ডা এগিয়ে নিচ্ছে। এগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও সামগ্রিক সমৃদ্ধির জন্য হুমকি। এসব সংস্থার পেছনে ব্যয় করা আর গ্রহণযোগ্য নয়। বিনিময়ে কার্যত কিছুই পাওয়া যায় না।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক বিবৃতিতে বলেছেন, শান্তি ও সহযোগিতার জন্য গড়ে ওঠা আন্তর্জাতিক কাঠামো এখন এক ধরনের বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থায় পরিণত হয়েছে। যা প্রগতিশীল আদর্শে প্রভাবিত এবং জাতীয় স্বার্থ থেকে বিচ্ছিন্ন করে।
ট্রাম্প প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্ত নতুন নয়। এর আগেও ট্রাম্প প্যারিস জলবায়ু চুক্তি, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এবং ইউনেসকো থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেয়। একইসঙ্গে ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের সহায়তাকারী সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএসহ বিভিন্ন জাতিসংঘ সংস্থার তহবিল কমিয়ে দেওয়া হয়। গত বছর যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ইউএসএইডের মাধ্যমে বিদেশি সহায়তা বড় পরিসরে কমিয়ে দেয়। এর ফলে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশ ও বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য খাতে কাজ করা বেশ কয়েকটি জাতিসংঘ সংস্থা কার্যক্রম সীমিত করতে বাধ্য হয়।
জানা গেছে, জলবায়ু বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান আরও কঠোর হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি ও বিশ্বের শীর্ষ বৈজ্ঞানিক সংস্থা থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এসেছে-যখন ট্রাম্প দেশের ভেতরে জীবাশ্ম জ্বালানির পক্ষে আগ্রাসী অবস্থান নিয়েছেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের এমন সব সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রকে কার্যত বিশ্ব থেকে আরো বিচ্ছিন্ন করে দেবে। একইসঙ্গে এটি বৈশ্বিক কূটনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা থেকে সরে আসার স্পষ্ট ইঙ্গিত।
পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক জিন গ্যালব্রেইথ বলেছেন, এটি বিশ্ববাসীর কাছে যুক্তরাষ্ট্রের নীতির প্রতি চরম অবজ্ঞার একটি বড় বার্তা।
হোয়াইট হাউসের সাবেক কর্মকর্তা জিনা ম্যাকার্থি এ সিদ্ধান্তকে স্বল্পদৃষ্টিসম্পন্ন, বিব্রতকর ও বোকামিপূর্ণ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, এতে করে যুক্তরাষ্ট্র কয়েক দশকের বৈশ্বিক সহযোগিতা নষ্ট করছে এবং বিপুল বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সুযোগ হারাচ্ছে।
ট্রাম্পের শাসনামলে দেশটির পররাষ্ট্রনীতির তীব্র সমালোচনা করেছেন জার্মান প্রেসিডেন্ট ফ্রাংক-ওয়াল্টার স্টেইনমায়ার। একই সঙ্গে বিশ্বের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, বিশ্বব্যবস্থা ভেঙে তা যেন ??ডাকাতদের আস্তানায়’ পরিণত না হয়; সেই বিষয়ে সতর্ক থাকবেন।