ঢাকাবৃহস্পতিবার , ৮ জানুয়ারি ২০২৬
  • অন্যান্য
আজকের সর্বশেষ সবখবর

অনুমোদন ছাড়াই ঈশ্বরদীতে তিন হাজার সরকারী গাছ নিধন*

জয়পত্র ডেস্কঃ
জানুয়ারি ৮, ২০২৬ ২:৪৮ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

ঈশ্বরদীতে কোনো ধরনের সরকারি অনুমোদন ও নিলাম প্রক্রিয়া ছাড়াই প্রায় তিন হাজারের বেশি মূল্যবান গাছ কেটে সাবাড় করার অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। উত্তরবঙ্গের অন্যতম রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান নর্থবেঙ্গল সুগার মিলের আওতাধীন মুলাডুলি খামারের জমিতে প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে এ নির্বিচার বৃক্ষ নিধন চালানো হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি)-এর পানাশি সেচ প্রকল্পের আওতায় ‘ভ্যালি ইরিগেশন’ নামের একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এই প্রকল্পের অংশ হিসেবে মুলাডুলি খামারের সরদারপাড়া থেকে ১০ নম্বর সেক্টর পর্যন্ত ক্যানাল খননের সময় ক্যানালের দু’পাশে থাকা বহু বছরের পুরোনো মেহগনি, শিশু, খয়ের, রেন্টি কড়াই ও খেজুরসহ প্রায় তিন হাজারেরও বেশি গাছ কেটে ফেলা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, সরকারি বিধি অনুযায়ী বনবিভাগের মাধ্যমে গাছের মূল্য নির্ধারণ, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন এবং নিলাম বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিক্রির বাধ্যবাধকতা থাকলেও এ ক্ষেত্রে তার কোনো কিছুই অনুসরণ করা হয়নি। গোপনে ও তড়িঘড়ি করে গাছ কেটে তা নর্থবেঙ্গল সুগার মিলে সরবরাহ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে মুলাডুলি খামারের ইনচার্জ আনোয়ারুল ইসলাম আমিন বলেন, “কিছু গাছ কাটা হয়েছে। সেগুলো নর্থবেঙ্গল সুগার মিলে আগুন হিটের কাজে ব্যবহার করা হয়েছে।” তিনি দাবি করেন, ভ্যালি ইরিগেশন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে এলাকাবাসী, মিল ও দেশ উপকৃত হবে।
তবে স্থানীয় কৃষক ও বাসিন্দারা এ বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে বলেন, প্রকল্পের প্রয়োজনের তুলনায় যে পরিমাণ গাছ কাটা হয়েছে তা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও অসংগত। এতে খামারের প্রাকৃতিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং পরিবেশের ভারসাম্য বিনষ্ট হয়েছে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ ধরনের ব্যাপক বৃক্ষ নিধনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট অনুমোদন বাধ্যতামূলক। অনুমোদন ছাড়া গাছ কর্তন করা হলে তা পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের সরাসরি লঙ্ঘন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার একজন বলেন, “একান্ত প্রয়োজন থাকলে যথাযথ প্রক্রিয়ায় দরপত্র ও মূল্য নির্ধারণের মাধ্যমে গাছ কাটা যেত। কিন্তু এখানে ইক্ষুর আড়ালে হাজারো গাছ নির্বিচারে কেটে ফেলা হয়েছে।”।”
ঘটনার বিষয়ে জানতে নর্থবেঙ্গল সুগার মিলের জিএম (প্রশাসন) আনিসুর রহমানের কার্যালয়ে গেলে তা তালাবদ্ধ পাওয়া যায়। একইভাবে ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ফরিদ হোসেন ভূঁইয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চাইলে প্রথমে তাকে অনুপস্থিত দেখানো হয়। পরে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে দেখা করলেও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য না করে খামারী প্রধানের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন।
খামারী প্রধান বাকী বিল্লাহর কার্যালয়েও তালা ঝুলতে দেখা যায়। মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
বিএডিসির সহকারী প্রকৌশলী (ক্ষুদ্রসেচ), ঈশ্বরদী জোনের সুমন চন্দ্র বর্মন বলেন, “এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। জেলা প্রধান কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলুন।” তবে বিএডিসি পাবনার নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়সাল আহমেদের মোবাইল ফোন একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও বন্ধ পাওয়া গেছে।
এবিষয়ে ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. আরিফুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমি নতুন এখানে যোগাদান করেছি। সরকারী খামারের বিষয়টি আজই অবগত হয়েছি। এবিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসক মহোদয়ের কাছে প্রেরন করা হয়েছে।
এদিকে ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।