ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চূড়ান্ত রোডম্যাপ বা কর্মপরিকল্পনা আজ বৃহস্পতিবার প্রকাশ করতে পারে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এরই মধ্যে কমিশন তা অনুমোদন দিয়েছে।
নির্বাচন ভবনের মিডিয়া সেন্টারে গতকাল বুধবার বিকেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানান, আমরা যে কর্মপরিকল্পনা করেছি, সেটার জন্য বৃহস্পতিবার (আজ) পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।
আগামী ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ নিয়ে এরই মধ্যে নির্বাচন কমিশনকে প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দিয়ে চিঠি দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসও বরাবরই ফেব্রুয়ারির প্রথম দিকে নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা বলে আসছেন। নির্বাচন কমিশন ভোটের প্রস্তুতি এরই মধ্যে শুরু করেছে। প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ভোটার হালনাগাদ, প্রশিক্ষণ, ভোটকেন্দ্র স্থাপন, ভোট কর্মকর্তার প্যানেল প্রস্তুত, ম্যানুয়্যাল প্রস্তুত, আইন সংস্কার, ভোটের উপকরণ ক্রয়সহ ২৪ ধরনের বিষয় রোডম্যাপে স্থান পাবে।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ কবে ঘোষণা করবেন- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে ইসি সচিব বলেন, আমাদের এটার (রোডম্যাপ) জন্য অনেক কিছু অপেক্ষা করছে; এটা আমরা বুঝি। আপনারা আগামীকাল (আজ) পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। এর আগে নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাউসদ জানান, ‘কমিশন রোডম্যাপ অনুমোদন দিয়েছে। দুয়েকদিনের মধ্যে তা প্রকাশ করা হবে।’ এরই মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ভোট হবে। আর তফসিল হবে তার দুই মাস আগে। এক্ষেত্রে ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে তফসিল হতে পারে।
দ্রুতই সীমানা নির্ধারণীর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হবে : আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণ সংক্রান্ত খসড়া নিয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) আয়োজিত শুনানি শেষ হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ অন্য কমিশনারদের উপস্থিতিতে গত ২৩ থেকে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত এ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। দেশের ৩৩টি জেলার ৮৪টি আসনের প্রাপ্ত আপত্তির ওপর এ শুনানি হয়েছে বলে জানান ইসি সচিবালয়ের কর্মকর্তারা।
গতকাল দুপুরে ইসি সচিবালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, গত ৩০ জুলাই প্রকাশিত খসড়ার ওপর ১০ আগস্ট পর্যন্ত আপত্তি জানানোর সময়সীমা ছিল। এ সময়ের মধ্যে ৩৩টি জেলার ৮৪টি আসন সম্পর্কিত মোট ১ হাজার ৮৯৩টি আপত্তি এবং সুপারিশ জমা পড়ে। এর মধ্যে ১ হাজার ১৮৫টি আপত্তি এবং ৭০৮টি সুপারিশ ছিল।
ইসি সচিব আরো বলেন, গত চার দিনে ৬৪টি আসনের ওপর শুনানি হয়েছে। যেখানে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তাদের মতামত তুলে ধরেছেন। উভয় পক্ষের মতামত শোনার পর এখন পাওয়া তথ্যগুলো পর্যালোচনা করছে কমিশন। খুব শিগগির চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছে ইসি। তিনি আরো বলেন, যেহেতু ৮৪টি আসনের সীমানা নিয়ে আপত্তি জমা পড়েছে, তাই চূড়ান্ত তালিকায় মূলত এ আসনগুলোয়ই পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে। যেখানে কোনো আপত্তি নেই, সেখানে হাত দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শুনানি চলাকালীন অপ্রীতিকর ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে সচিব বলেন, এটি ছিল অনাকাঙ্ক্ষিত এবং দুঃখজনক। এ ঘটনায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশকে অনুরোধ করা হয়েছে। এছাড়া তারা (ইসি) কোনো ব্যক্তির পাসপোর্ট জব্দ করার নির্দেশ দেয়নি, কারণ এটি তাদের এখতিয়ারের বাইরে।
