ঢাকারবিবার , ২৪ আগস্ট ২০২৫
  • অন্যান্য

শেখ হাসিনার বিচার হতেই হবে মির্জা ফখরুল

জয়পত্র ডেস্কঃ
আগস্ট ২৪, ২০২৫ ৯:৪৩ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

গুম ও খুনের জন্য শেখ হাসিনার বিচার এ মাটিতে হতেই হবে- এমন দাবি জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, গুম ও খুনের জন্য শেখ হাসিনা সরাসরি দায়ী। এই দেশের মাটিতে তার বিচার হতেই হবে। এমনকি সর্বোচ্চ শাস্তি হতে হবে। গতকাল শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে মায়ের ডাকের অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন। বিএনপি মহাসচিব বলেন, গুম-খুনের সঙ্গে যারা জড়িত ছিল তাদেরকে খুঁজে বের করে আনার চেষ্টা করবে বিএনপি। মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের বিচার করা হবে। আর এর সঙ্গে সরাসরি জড়িত শেখ হাসিনা। দলের পক্ষ থেকে বলতে চাই, যতদিন পর্যন্ত আমরা তাদের শাস্তি দিতে না পারব, ততদিন আমরা ভুক্তভোগীদের পরিবারের সঙ্গে আছি।
মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপির ১৭শ নেতাকর্মীকে গুম করা হয়েছিল। বাংলাদেশের প্রতিটি পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছি। তবে স্পষ্টভাবে বলতে চাই, বর্তমান অন্তর্র্বর্তী সরকার সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে।
গুম-খুনের শিকার স্বজনদের কষ্টের কথা স্মরণ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, সেই দিনগুলোর কথা মনে পড়ে- আন্দোলনে নামা অনেকেই গুম হয়ে গেল। এক পরিবারের সাতজন পর্যন্তও গুম হলো। স্বজনহারা ছোট বাচ্চাদের দেখলে কষ্ট হয়, কারণ তাদের একসময় আরো ছোট অবস্থায় দেখেছিলাম।
‘মায়ের ডাক’র মানববন্ধন থেকে ১১ দাবি : আগামী ৩০ আগস্ট আন্তর্জাতিক গুম দিবস সামনে রেখে সরকারের কাছে ১১ দফা দাবি জানিয়েছে ভুক্তভোগীদের পরিবারের সংগঠন ‘মায়ের ডাক’। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে মানববন্ধন থেকে এ দাবি জানানো হয়। এতে বিগত সরকারের সময়ে গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্বজনরা অংশগ্রহণ করেন।
তাদের দেওয়া ১১ দফা দাবি হলো- ১. গুমের সব ঘটনার নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত শুরু করতে হবে, যাতে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর পূর্ণ সহযোগিতা নিশ্চিত হয়। গুমের শিকার ব্যক্তিদের সন্ধানে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসারে একটি জাতীয় কার্যপ্রক্রিয়া গঠন করতে হবে, যা নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞদের নেতৃত্বে পরিচালিত হবে এবং যার মাধ্যমে নথিপত্র, আটক কেন্দ্র ও সাক্ষ্য-প্রমাণে পূর্ণ প্রবেশাধিকার থাকবে। ২. গুম ও নির্যাতন থেকে বেঁচে ফেরা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে করা মিথ্যা ও প্রতিহিংসামূলক মামলা প্রত্যাহার এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রসূত আইনি হয়রানি বন্ধ করতে হবে।
৩. গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবার যেন নিখোঁজ আত্মীয়ের আর্থিক, সম্পত্তিগত ও ব্যক্তিদের বিষয়াদি পরিচালনার আইনি অধিকার পায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। এর মধ্যে অভিভাবকত্বের অধিকার ও ক্ষতিপূরণ প্রাপ্তির ব্যবস্থাও অন্তর্ভুক্ত। ৪. গুম থেকে বেঁচে ফেরা ও তাদের পরিবারের জন্য একটি জাতীয় সুরক্ষা কাঠামো প্রণয়ন করতে হবে- যার মধ্যে থাকবে সামাজিক ও আইনি সহায়তা, ভয়ভীতি প্রদর্শন বা নজরদারি থেকে সুরক্ষা।
৫. সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অপব্যবহার রোধে অবিলম্বে সংস্কার আনতে হবে; যাতে এটি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ, সিভিল সোসাইটির সদস্য ও নিরপরাধ নাগরিকদের বিরুদ্ধে ব্যবহার না করা হয়। ৬. যেসব নিরাপত্তা বাহিনী বারবার গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে জড়িত, তাদের বিলুপ্ত অথবা পুনর্গঠন করতে হবে। ৭. যদি দেশের বিচার ব্যবস্থা পক্ষপাতদুষ্ট বা বাধাগ্রস্ত থাকে, তাহলে আন্তর্জাতিক জবাবদিহির প্রক্রিয়া গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করতে হবে।
৮. গুমবিরোধী যেকোনো প্রস্তাবিত আইনকে আন্তর্জাতিক কনভেশনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হবে এবং আনুষ্ঠানিক কনভেনশনটি অনুসমর্থন করতে হবে। ৯. যারা প্রমাণ নষ্ট করেছে, গোপন আটক কেন্দ্র লুকিয়েছে বা তদন্তে বাধা দিয়েছে, তাদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। ১০. সব কার্যক্রমে পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। ১১. আন্তর্জাতিক কারিগরি সহায়তার মাধ্যমে বাংলাদেশের ফরেনসিক, আইনগত ও তদন্ত সংক্রান্ত সক্ষমতা জোরদার করতে হবে- যাতে বিচার প্রমাণ নির্ভর ও ভুক্তভোগীকেন্দ্রিক না হয়।
নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণার দাবি বিএনপি নেতার : অনতিবিলম্বে নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন। গতকাল শুক্রবার দুপুরে এক আলোচনা সভায় তিনি এ দাবি জানান। জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলে ‘বিশ্ব মানবাধিকার সংস্থা-বাংলাদেশ’ এর উদ্যোগে ‘গণতন্ত্র ও মানবাধিকার নিশ্চিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের গুরুত্ব’ শীর্ষক এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এতে জাহিদ বলেন, ‘আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, আর বিলম্ব নয়। ড. ইউনূস স্যারের নেতৃত্বে অন্তর্র্বর্তী সরকার ফেব্রুয়ারির মধ্যভাগের মধ্যে নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনকে যে রিকোয়েস্ট করেছেন, আমরা চাই, অনতিবিলম্বে নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করুক’।
নির্বাচন নিয়ে কয়েকটি রাজনৈতিক দলের নানা ধরনের বক্তব্যের সমালোচনা করে ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, ‘আপনারা বলেন, পিআর না হলে নির্বাচনে যাব না। আপনি যে এই কথাটি বলেন, এই কথাটির ইমপ্লিকেশন চিন্তা করেছেন? আজকে যদি নির্বাচন বিলম্বিত হয়, নির্বাচন যদি যথাসময়ে না হয় তাহলে লাভ কাদের? লাভ হচ্ছে, পতিত স্বৈরাচারের রেখে যাওয়া যে সমস্ত এই সুবিধাভোগীরা আজকে প্রশাসনে বলেন, বিচারালয়ে বলেন, ব্যবসাকেন্দ্রে বলেন, সর্বত্র ছড়িয়ে আছে’।
‘তারা দেশে এবং দেশের বাইরে বসে তাদের নেত্রী যে ষড়যন্ত্র করছে নির্বাচন হতে দিব না নির্বাচন এটা করতে দিব না অর্থাৎ এক ধরনের বিশৃঙ্খলা হলে লাভ কাদের? লাভ হচ্ছে পলায়নকৃত স্বৈরাচারের। আপনারা যারা বুঝে না বুঝে বিভিন্ন দাবি তুলে আজকে নির্বাচনকে পিছিয়ে দিতে চান তারা কি প্রকারান্তরে স্বৈরাচারের পক্ষে কাজ করছেন কিনা সেটি কি বিবেচনা করেছেন?’ তিনি বলেন, ‘আজকে যদি স্বৈরাচারের পক্ষে কাজ করেন এবং আপনাদের কর্মসূচির কারণে যদি আজকে কোনো কারণে এ দেশের নির্বাচন হবে কি হবে না- এ নিয়ে মানুষের মধ্যে এক ধরনের আশঙ্কা জমে, তাহলে লাভবান হবে পলায়নকৃত স্বৈরাচার। এর জন্য কি আপনারা ২০২৪ সালের ৩৬ জুলাই করেছিলেন?’