নিজস্ব প্রতিনিধি ।। আজ ১০ ফেব্রুয়ারি রবিবার সকালে পাবনা জেলা কারাগার থেকে কারামুক্ত হয়ে পাবনা জেলা বিএনপি কার্যালয়ে বক্তব্য দেন ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জননেতা জাকারিয়া পিন্টু । এ সময় জাকারিয়া পিন্টু মুক্ত হয়েই বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি অসীম কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন । পাবনা জেলা বিএনপির আহবায়ক ও বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্ঠা হাবিবুর রহমান হাবিবসহ অগনিত নেতৃবৃন্দ পিন্টুকে জেলগেটে উষ্ণ ফুলেল শুভেচ্ছা ও অকৃত্রিম ভালবাসায় অভিসিক্ত করেন।
১৯৯৪ সালে ঈশ্বরদীতে শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়া বিএনপি নেতা জাকারিয়া পিন্টুসহ ৩জন কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন আজ ১০ ফেব্রুয়ারি সোমবার দুপুরে । মুক্তিপ্রাপ্ত অন্য দুইজন হলেন- ঈশ্বরদী পৌর বিএনপি নেতা শহিদুল ইসলাম অটল ও ঈশ্বরদীর যুবদল নেতা মোস্তফা নুরে আলম শ্যামল।
কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর সেখান থেকে তিনজন জেলা বিএনপির কার্যালয়ে পৌঁছালে ৩জনকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ। পরে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন কারামুক্ত ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টু। পরে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্য সচিব মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা জাকারিয়া পিন্টুসহ বিএনপির নেতাদের নিয়ে শোভাযাত্রা বের করেন।
জেলা বিএনপির কার্যালয় থেকে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে গাছপাড়া, টেবুনিয়া, দাশুড়িয়া হয়ে ঈশ্বরদী এসে শেষ হয়। ঈশ্বরদী পুরাতন বাসস্টান্ডে কারামুক্ত নেতাদের বিশাল গণসংবর্ধনার আয়োজন করে ঈশ্বরদী উপজেলা ও পৌর বিএনপি।
মুক্ত জীবনে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে জাকারিয়া পিন্টু বলেন, মামলাটি ছিল তৎকালীন আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ গ্রুপিংয়ের কারণে সেই গণ্ডগোল হয়েছিল। সেখানে আমরা স্যাবোটাজ হয়ে গেছি যেভাবেই হোক। পরে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে বিএনপির ৫২ জন নেতাকর্মীকে জড়িয়ে মামলাটি করেছিল। পরে সেই মামলায় ফরমায়েশি রায় দিয়েছিল। যাতে ঈশ্বরদীতে বিএনপি মাথা তুলে দাঁড়াতে না পারে। আর কারামুক্তির অনুভূতি তিনি তারেক রহমানকে উৎসর্গ করেন। তিনি ঈশ্বরদীর সকল বিএনপি নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আইন নিজের হাতে তুলে নিবেন না। মব ভায়োলেন্স কোনো ভাবেই বরদাস্ত করবো না। আমার অবর্তমানে ঈশ্বরদীর নেতাকর্মীরা যদি কোথাও চাঁদাবাজি, দখলবাজি করে থাকে আমি তার জন্য আপনাদের সকলের কাছে ক্ষমাচাচ্ছি।
উল্লেখ্য, ১৯৯৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা উত্তরাঞ্চলে দলীয় কর্মসূচিতে যোগ দিতে ট্রেনে খুলনা থেকে সৈয়দপুর যাচ্ছিলেন। ট্রেনটি ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশন স্টেশনে ঢোকার সময় ট্রেন লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় ওই সময় ট্রেনে গুলিবর্ষণ ও বোমা হামলার অভিযোগে ঈশ্বরদী জিআরপি (রেলওয়ে পুলিশ) থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। মামলায় তৎকালীন ছাত্রদল নেতা ও ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির নেতা জাকারিয়া পিন্টুসহ ৭জনকে আসামি করা হয়। মামলা দায়েরের পরের বছর পুলিশ কোনো সাক্ষী না পেয়ে আদালতে চূড়ান্ত অভিযোগপত্র জমা দেয়। কিন্তু আদালত সে অভিযোগপত্র গ্রহণ না করে অধিক তদন্তের জন্য মামলাটি সিআইডিতে পাঠান। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর মামলাটির পুনঃতদন্ত হয়। ১৯৯৭ সালের ৩ এপ্রিল পুলিশ ঈশ্বরদীর বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীসহ ৫২ জনের নামে আদালতে আবার অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়।
২০১৯ সালের ৩ জুলাই পাবনার স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল-৩ এর তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত বিচারক রুস্তম আলী এ মামলায় রায় দেন। রায়ে বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদলের বিভিন্ন পর্যায়ের ৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ২৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ১৩ জনকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। গত ৫ ফেব্রুয়ারি মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশ প্রাপ্ত বিএনপি নেতা জাকারিয়া পিন্টুসহ স্থানীয় বিএনপির আরও ৯ নেতাসহ ৪৭ জনের সবাইকে খালাসের আদেশ দেন হাইকোর্ট।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব জানান, খালাসপ্রাপ্ত নেতাদের মধ্যে ৩০ জন হাইকোর্টের রায় ঘোষণার আগে জামিনে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্তদের মধ্যে পাবনা কারাগারে ছিলেন জাকারিয়া পিন্টুসহ ৪জন। তারা সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) মুক্তি পান। এছাড়া রাজশাহী ও ঢাকার কেরানীগঞ্জ কারাগারে থাকা বাকি নেতারা মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) মুক্তি পাবেন।
