ঢাকামঙ্গলবার , ১০ ডিসেম্বর ২০২৪
  • অন্যান্য

ঈশ্বরদীর হেলথ কেয়ার হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনেস্টিক সেন্টারে চিকিৎসকের অবহেলায় নবজাতকের মৃত্যু

জয়পত্র ডেস্কঃ
ডিসেম্বর ১০, ২০২৪ ২:৫৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

নিজস্ব প্রতিনিধি ।। অপারেশন থিয়েটারে গাইনি বিশেষজ্ঞ ও পরে শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অবহেলায় এক নবজাতকের করুণ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
আর এ ঘটনায় মৃত নবজাতকের মরদেহ আটকিয়ে পরিবারের নিকট থেকে ২০ হাজার টাকা আদায় করে এম্বুলেন্স চালককে দেওয়া হয়।
বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ মৃত নবজাতকের পরিবার ও স্বজনদের হাত করে গত ১০ ডিসেম্বর রবিবার রাতে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিয়ে মিমাংমা করে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
গত শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে রবিবার রাত ৯ টা পর্যন্ত ঈশ্বরদীর হেলথ কেয়ার হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনেস্টিক সেন্টারে এসব ঘটনা ঘটে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঈশ্বরদী শহরের ভাটাপাড়া এলাকার মৃত সেকেন্দার আলী শাহর ছেলে আশিকুর রহমান আকাশের স্ত্রী মারিয়া খাতুন (২২) হেলথ কেয়ার হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনেস্টিক সেন্টারের মালিক ও গাইনি (প্রসূতি) বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক লতিফা সুলতানা নিকট চিকিৎসাধীন ছিলেন। প্রসব বেদনা উঠলে শুক্রবার সিজারের মাধ্যমে বাচ্চা প্রসবের জন্য হেলথ কেয়ারে ভর্তি করা হয়। সেখানে নানা রকম পরীক্ষা-নিরিক্ষা করে বাচ্চা সুস্থ্য ও স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানান হয় । তবে সন্তানের ওজন বেড়ে যাওয়ায় দুপুরের মধ্যেই অপারেশন করাতে হবে বলে জানান ডাক্তার লতিফা সুলতানা। সে মোতাবেক ভর্তি করানো হয় কিন্তু ডাক্তার লতিফা সুলতানা সময়ক্ষেপন করে সন্ধ্যার পর অপারেশন করে বাচ্চা প্রসব করানো হলেও দীর্ঘ এক ঘন্টা পর্যন্ত নবজাতকে স্বজনদের দেখতে দেওয়া হয়নি। পরে অপারেশন থিয়েটার থেকে ডাক্তার লতিফা সুলতানা ও তার স্বামী শিশু ডাক্তার রকিকুল ইসলাম রিপন নবজাতকের স্বজনদের জানান এম্বুলেন্স ডাকা হয়েছে দ্রুত শিশুকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিতে হবে। এরপর অক্সিজেন ব্যবস্থাহীন এ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে শুধুমাত্র নবজাতকে রাজশাহী নেওয়ার পথে বাঘায় মারা যায় নবজাতক। নবজাতকের স্বজনরা ক্ষিপ্ত হয়ে এ্যাম্বুলেন্সটির গ্লাস ভেঙ্গে ফেলে।
মৃত নবজাতকের পরিবার জানান, মৃত শিশুকে দাফন কাজে বাধা দিয়ে হেলথ কেয়ারের ডাক্তারের সঙ্গে যোগসাযশ করে এ্যাম্বুলেন্স চালক তাদের নিকট থেকে নগদ ২০ হাজার টাকা আদায় করে।
সূত্রগুলো আরও জানান, বিষয়টি ধামাচাপা দিতে ডাক্তার লতিফা সুলতানা ও তার স্বামী রিপন ডাক্তার তড়িঘড়ি করে তাদেরকে ক্লিনিকে ডেকে নিয়ে আলোচনা সাপেক্ষে ক্ষতিপূরণ দিয়ে বিষয়টি মিমাংসা করেন।
মৃত নবজাতকের বাবা আশিকুর রহমান আকাশ বলেন, চরম অবহেলা করে আমার ছেলেটাকে মেরে ফেলা হয়েছে। আর যেন কোন শিশু হেলথ কেয়ার হাসপাতাল এ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের চিকিৎক লতিফা সুলতানা ও ডাক্তার রকিবুল ইসলাম রিপনের ভুল ও অপচিকিৎসায় মৃত্যুবরণ না করে সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি করেন।
এ ব্যাপারে গাইনি বিশেষজ্ঞ ডাক্তার লতিফা সুলতানার কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে তার স্বামী শিশু চিকিৎসক রকিবুল ইসলাম রিপন বলেন, নবজাতকটি আমার ক্লিনিকে মারা যায়নি। শিশুটির হার্টের সমস্যা থাকায় রাজশাহী মেডিক্যালে পাঠানো হয়। পথিমধ্যে শিশুটি মারা গেছে। এইজন্য আমাদের কোন দায়ভার নেই। তবে মৃত নবজাতকের স্বজনদের সঙ্গে মিমাংসার বিষয়টি এড়িয়ে যেতে মোবাইল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন ।
পতিত আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে এমন ঘটনা ঘটলে ডাক্তার রিপন নিজেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ শাখার ছাত্রলীগের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের প্রভাবশালী নেতা হিসাবে ভয়-ভীতি প্রদর্শন করতেন।
এবিষয়ে পাবনা সিভিল সার্জন ডাক্তার মোঃ শহীদুল্লাহ দেওয়ান বলেন, ঈশ্বরদীর হেলথ কেয়ার হাসপাতাল এ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ডাক্তারদের অবহেলায় নবজাতকের মৃত্যুর বিষয়টি শুনেছি। নিহত নবজাতকের পরিবার থেকে কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে কেউ অভিযোগ করলে বা সংবাদ প্রকাশ করা হলে তদন্ত কমিটি করে বিষয়টি তদন্ত করে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।