ঢাকাবুধবার , ১৬ অক্টোবর ২০২৪
  • অন্যান্য

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধগতিতে বিপর্যস্ত মানুষ

জয়পত্র ডেস্কঃ
অক্টোবর ১৬, ২০২৪ ২:৪১ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

গত বৃহস্পতিবার মধ্যবয়সি দুই নারী এসেছিলেন বাজারে। কিছু সবজি কিনে দাঁড়ালেন মুরগির দোকানের সামনে। দাম জিজ্ঞেস করলে দোকানি জানালেন, ব্রয়লার মুরগি ১৯০ টাকা কেজি। কয়েকটি মুরগি ওজন করালেন। নিজেদের মধ্যে হিসাব করলেন। কিন্তু কিছুতেই যেন মিলছে না। শেষে একটি মুরগির ওজনে সন্তুষ্ট হয়ে দুজনে সমান টাকা ভাগ করে দিলেন। দুজনে মিলে একটি মুরগি কেনার কারণ জিজ্ঞেস করলে তারা জানান, বাচ্চারা আজ মাংস খেতে চেয়েছে। কিন্তু একজনের পক্ষে আস্ত মুরগি কেনা সম্ভব নয়। তাই একটি কিনে ভাগ করা হবে। এই হচ্ছে সাধারণ মানুষের অবস্থা। তাদের চেয়েও নিুআয়ের মানুষের সংখ্যা সমাজে বেশি। কীভাবে চলছে তাদের সংসার!
সবজি ব্যবসায়ীরা বলছেন, বর্ষার সময় সবজি খেত ডুবে যায়, গাছের ক্ষতি হয়। উৎপাদন কম হওয়ার কারণে মূল্য বৃদ্ধি পায়। এবার দেশের পূর্ব ও উত্তরাঞ্চলে ভয়াবহ বন্যায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া মধ্য সেপ্টেম্বর থেকে অতিবৃষ্টির ফলে সবজির ক্ষতি মারাত্মক। সরবরাহ অস্বাভাবিক কমে যাওয়ায় মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। অপরদিকে কিছু পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির জন্য ব্যবসায়ীদের কারসাজিও আছে। সংবাদপত্রের খবরে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে গত পৌনে দুই বছরে সয়াবিন তেলের দাম কমেছে ৫১ দশমিক ৫২ শতাংশ। জাহাজ ভাড়াসহ পরিবহণ খরচও কমেছে। আন্তর্জাতিক বাজার ও ডলারের দাম সমন্বয় করলে দেশের বাজারে প্রতি লিটারে দাম ৫১ টাকা কমার কথা। উৎপাদন ও মজুত বিবেচনায় চালের মূল্যবৃদ্ধির কোনো যৌক্তিক কারণ নেই।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ড. ইউনূসের নেতৃত্বে যে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়েছে, বাজার নিয়ন্ত্রণে তাদের তৎপরতা কম। গণ-অভ্যুত্থানের দুই মাস পূর্তি উপলক্ষ্যে আয়োজিত সমাবেশে জাতীয় নাগরিক কমিটির নেতাদের কণ্ঠেও ক্ষোভ লক্ষ করা গেছে। তারা বলেছেন, ‘সাধারণ মানুষের পেটে লাথি দেওয়া সিন্ডিকেটগুলো এখনো সক্রিয়।’ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সরকার যদি কোনো ব্যবস্থা না নিতে পারে, তারা সক্রিয় থাকবে, এটাই তো স্বাভাবিক। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সিন্ডিকেটের কারণে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে বলে প্রায়ই অভিযোগ করা হতো। এছাড়া রয়েছে ব্যাপক চাঁদাবাজি। বাজার সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজ তো অদৃশ্য শক্তি নয় যে তাদের ধরা যাবে না। সরকারের নিষ্ক্রিয়তা অগ্রহণযোগ্য। নিত্যপণ্যের বাজার পরিস্থিতি ও সরবরাহ চেইন তদারকি ও পর্যালোচনার জন্য জেলা পর্যায়ে ‘বিশেষ টাস্কফোর্স’ গঠন করা হয়েছে। দেখা যাক তারা কতটা সফল হয়।
অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, আগামী দিনগুলোতে দ্রব্যমূল্য আরও বাড়তে পারে। কারণ মূল্যস্ফীতি এখন বৈশ্বিক বাস্তবতা হয়ে উঠেছে। বিশ্বে সাপ্লাই চেইন ও দেশে উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে, দুনিয়ার নানা প্রান্তে যুদ্ধ চলছে, তেলের দাম বাড়ছে, আমদানিকারকদের আত্মবিশ্বাস কমে যাচ্ছে। বর্তমান সরকার সময়মতো চাহিদানুযায়ী পণ্য আমদানিতে ব্যর্থ হয়েছে। কাঁচামাল ও অন্যান্য উপকরণের জোগানে ঘাটতি আছে। বিদ্যুৎ, গ্যাস, তেল সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। কলকারখানায় শ্রমিক সমস্যা ও নিরাপত্তার অভাবে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এমতাবস্থায় অবিলম্বে বেকারদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। ৫০ শতাংশ পরিবারের জন্য স্বল্পমূল্যে টিসিবির পণ্য বরাদ্দ করতে হবে। আমরা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি, অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকরভাবে আইনের প্রয়োগ ঘটিয়ে সাধারণের মনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করে যাবে। স্থানীয় বাজার ও স্ব স্ব অঞ্চলে অসৎ ব্যবসায়ীদের প্রতিহত করতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে জনগণকেই।
রেজাউল করিম খান : প্রাবন্ধিক