নিজস্ব প্রতিনিধি : ঈশ্বরদীতে যুবদল কর্মীকে হত্যা চেষ্টার ঘটনায় সাবেক সংসদ সদস্যসহ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের ৭১ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৭০-৮০ জনকে আসামি করা হয়েছে ।
যুবদল কর্মী নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে ঈশ্বরদী থানায় মামলাটি দায়ের করেন। ১৫ আগষ্ঠ বৃহস্পতিবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম।
মামলায় পাবনা-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য গালিবুর রহমান শরীফকে এক নম্বর আসামি করা হয়েছে। অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন । ঈশ্বরদী উপজেলা যুবলীগের সভাপতি শিরহান শরীফ তমাল,পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র ইছাহক আলী মালিথা, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এমদাদুল হক রানা সরদার,ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম খান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোখলেছুর রহমান মিন্টু,লক্ষ্মীকুণ্ডা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনিস উর রহমান শরীফ, পৌর যুবলীগ সভাপতি আলাউদ্দিন বিপ্লব এবং পৌর ছাত্রলীগ সভাপতি আবির হাসান শৈশবসহ ৭১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাত পরিচয় আরও ৭০-৮০ জনকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,সরকার পতনের একদফা দাবিতে ৪ আগস্ট অসহযোগ আন্দোলন প্রতিরোধে শহরের রেলগেট খায়রুজ্জামান বাস টার্মিনালে অবস্থান কর্মসূচির ডাক দিয়ে জড়ো হতে থাকেন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের সংগঠনের নেতাকর্মীরা। অন্যদিকে আন্দোলনকারীরা ঈশ্বরদী-বানেশ্বর আঞ্চলিক মহাসড়কে অবস্থান নেন। এসময় ঈশ্বরদী যুবলীগের সভাপতি শিরহান শরীফ তমালের নেতৃত্বে যুবলীগের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। এদিকে শহরের পশ্চিম টেংরি কাঁচারীপাড়া ঈদগাহের কাছে পৌর যুবদলের আহ্বায়ক জাকির হোসেন জুয়েলসহ কয়েকজন যুবদল নেতাকর্মীকে দেখে মিছিল থেকে যুবলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়েন। এতে ওই এলাকায় ভেতরে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। এসময় উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক রাশেদুল ইসলাম রিপন ও কর্মী নজরুল ইসলাম গুলিবিদ্ধ হন। এর জের ধরে পরদিন ৫ আগস্ট সকালে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন বিক্ষুব্ধ যুবদল-স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা। এসময় শহরে স্টেশন রোড উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়, বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল এবং পোস্ট অফিস মোড়ে উপজেলা যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক কার্যালয় ভাঙচুর করেন যুবদলের নেতাকর্মীরা ।
