ঢাকামঙ্গলবার , ২ জুলাই ২০২৪
  • অন্যান্য
আজকের সর্বশেষ সবখবর

কনডেম সেল থেকে চার ফাঁসির আসামির পলায়ন, জেলার স্ট্যান্ড রিলিজ

জয়পত্র ডেস্কঃ
জুলাই ২, ২০২৪ ৪:০৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

বগুড়া কারাগারের কনডেম সেল থেকে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত চার কয়েদি পালানোর ঘটনায় এবার জেলার ফরিদুর রহমান রুবেলকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে। দায়িত্বে অবহেলায় তাকে রাজশাহীর ডিআইজি প্রিজনের কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। রাজবাড়ি জেলা কারাগারের জেলার সৈয়দ শাহ শরীফকে তার স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে।
আইজি প্রিজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এএসএম আনিসুল হক স্বাক্ষরিত পত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে। বদলির কারণ হিসেবে প্রশাসনিক কারণ উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে ডেপুটি জেলার মো. হোসেনুজ্জামানসহ সাতজনকে সাময়িক বরখাস্ত ও এক রক্ষীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছে।
বগুড়া জেলা কারাগারের জেল সুপার আনোয়ার হোসেন বলেন, দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগে কারা অধিদপ্তর ডেপুটি জেলার মো. হোসেনুজ্জামান, সুবেদার ফরিদ উদ্দিন, প্রধান কারারক্ষী আবদুল মতিন, সহকারী প্রধান কারারক্ষী সাইদুর রহমান, প্রধান কারারক্ষী দুলাল উদ্দিন, কারারক্ষী রেজাউল করিম, কারারক্ষী আরিফুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত এবং প্রধান কারারক্ষী আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছে। সর্বশেষ জেলার ফরিদুর রহমান রুবেলকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে। দায়িত্বে অবহেলায় তাকে রাজশাহীর ডিআইজি প্রিজনের কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।
জেল সুপার আরও জানান, কারা অধিদপ্তরের তিন সদস্যের কমিটির তদন্ত কার্যক্রম শেষ হয়েছে। জেলা প্রশাসনের ছয় সদস্যের কমিটির তদন্ত কাজ অব্যাহত রয়েছে। ইতোমধ্যে দুটি কনডেম সেলে থাকা ফাঁসির ১০ কয়েদিকে অন্যত্র সরিয়ে রাখা হয়েছে। এছাড়া রুটিন মাফিক কিছু কয়েদিকে রাজশাহীসহ বিভিন্ন জেলা কারাগারে স্থানান্তর করা হয়েছে।
জানা গেছে, গত ২৫ জুন রাত ৩.৫৫ মিনিটে বগুড়া জেলা কারাগারের কনডেম সেলের ছাদ ফুটো করে বিছানার চাদরকে রশি হিসেবে ব্যবহার করে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত চার আসামি পালিয়ে যায়। তারা করতোয়া নদীর সেতু পেরিয়ে পাশেই শহরের চেলোপাড়ায় চাষী বাজারে সমবেত হন। সেখান থেকে পালিয়ে যাওয়া প্রাক্কালে স্থানীয়রা অপরাধী সন্দেহে চারজনকে আটক করেন। খবর পেয়ে পুলিশ চারজনকে গ্রেফতার করে। তাদের বিরুদ্ধে জেলার ফরিদুর রহমান রুবেল সদর থানায় মামলা করেন।
চার ফাঁসির আসামিরা হলেন- কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী উপজেলার দিয়াডাঙ্গার নজরুল ইসলাম মজনু, নরসিংদীর মাধবদী উপজেলার ফজরকান্দির আমির হোসেন, বগুড়ার কাহালু পৌরসভার বিএনপি সমর্থিত মেয়র আবদুল মান্নানের ছেলে মো. জাকারিয়া এবং বগুড়া সদরের কুটুরবাড়ি পশ্চিমপাড়ার ফরিদ শেখ।
এরা প্রায় এক মাসের পরিকল্পনায় বাথরুমে থাকা বালতির লোহার হাতল দিয়ে কনডেম সেলের চুন-সুরকির ছাদ ফুটো করতে সক্ষম হন। এরপর তারা বিছানার চাদর ও অন্য কাপড় দিয়ে রশি বানিয়ে সেটা দিয়ে পালিয়ে যান। যদিও কিছুক্ষণ পর জনগণের হাতে ধরা পড়েন। তাদের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
জেল সুপার বলেন, ফাঁসির আসামিরা মাত্র ২-৩ দিনের চেষ্টায় কনডেম সেলের ছাদ ফুটো করে পালানো চেষ্টা করেছিল। এদিকে জেলা প্রশাসক ও কারা অধিদপ্তরের পৃথক তদন্ত কমিটি গত কয়েকদিন ধরে জেলের ভিতরে ও বাহিরে তদন্ত করেন।