ঢাকাবুধবার , ২৬ জুন ২০২৪
  • অন্যান্য

বাইরে ঝকঝকে ভেতরে জীর্ণ

জয়পত্র ডেস্কঃ
জুন ২৬, ২০২৪ ২:২৪ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

প্রতিটি ঘরের মেঝে ফেটে বালু ওঠে, দেয়ালে ফাটল, বারান্দার পলেস্তারা খসে পড়ছে। ভেঙে গেছে খুঁটিও। বৃষ্টি হলেই রাত কাটে নির্ঘুম। সামান্য বাতাসেই কেঁপে ওঠে ঘর। যে কোনো সময় ধসে পড়ে ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। ভয়ানক এ চিত্র ঈশ্বরদীর রামচন্দ্র বহরপুর এলাকার প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘরগুলোর।
হতদরিদ্র বৃদ্ধ আম্বিয়া খাতুন বলেন, বিনামূল্যে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের এ বাড়ি পেয়ে খুশি হয়েছিলাম, কিন্তু দুই বছর যেতে না যেতেই ঘরের দেয়ালে ফাটল, টিন ফুটো হয়ে বৃষ্টির পানি পড়া আর সামান্য বাতাসে নড়বড় করা ঘর নিয়ে খুব ভয়ে আছি। ‘এই বুঝি ঘর ভেঙে পড়ে মাথার ওপর’– এ আশঙ্কায় নির্ঘুম রাত কাটে রামচন্দ্র বহরপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দাদের।
আশ্রয়ণ প্রকল্প ঘুরে দেখা গেছে, প্রকল্পে ২০৬টি টিনশেড পাকাবাড়ি এবং ১০০টি কাঁচা টিনশেড বাড়ি রয়েছে। মোট ৩০৬টি বাড়িতে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা ১ হাজার ৩০০। ২০২২ সালের ২৬ এপ্রিল আরও ৬৩টি নতুন বাড়ি হস্তান্তর করা হয় এই রামচন্দ্র বহরপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পে। বাইরে থেকে প্রকল্পের ঘরগুলো ঝকঝকে দেখালেও ভেতরে প্রতিটি ঘরের অবস্থা জরাজীর্ণ। মাত্র ২ বছরেই ঘরগুলো বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সব ঘরে বৃষ্টি এলেই পানি পড়ে। রাতে বৃষ্টি হলেই নির্ঘুম রাত কাটাতে হয় বাসিন্দাদের। এসব কারণে বাড়ি ছেড়ে চলে গেছে ৮০টি পরিবার। এসব ঘরে এখন তালা ঝুলছে। বাকি ঘরগুলোর বেশ কয়েকটি ভাড়া দিয়ে রাখা হয়েছে। যাদের যাওয়ার আর কোনো জায়গা নেই তারা এখনও দুর্ভোগ মাথায় নিয়ে থাকছেন। কেউ কেউ সিমেন্ট বালু দিয়ে জোড়াতালি দিয়ে থাকার উপযোগী করার চেষ্টা করেন।
প্রকল্পে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করছেন এমন কয়েকজনের সঙ্গে কথা হয়। তবে তারা ভাড়ায় বসবাসের কথা অস্বীকার করেন। ঘরের দলিল দেখতে চাইলে দেখাতে পারেননি।
হতদরিদ্র আম্বিয়া খাতুন বলেন, ‘ঘর ছিল না। সরকারি পাকা ঘর পাইয়া খুশি হইছিলাম। এখন এই ঘরই দুশ্চিন্তার কারণ হইয়া দাঁড়াইছে। ঘরের বালু আলগা হইয়া পড়ছে। দেয়ালে বড় বড় ফাটল, বাতাসে কাঁপে, ঝড় আসলে মনে হয় ঘর মাথার ওপরে ভাইঙ্গা পড়বো।’
আম্বিয়া খাতুনের মতো আশঙ্কায় নির্ঘুম রাত কাটে রামচন্দ্র বহরপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা কমেলা বেগম, হব্বুল ইসলাম, শফিকুল ইসলাম, আম্বিয়া খাতুনসহ শতাধিক বাসিন্দার।
আশ্রয়ণ প্রকল্প সমবায় সমিতির সভাপতি শফিকুল ইসলাম বলেন, বসবাসের অনুপযোগী হওয়ায় ৮০ পরিবার চলে গেছে। তাদের ঘরে বাস করেন আত্মীয়স্বজনরা। এসব দেখার কেউ নেই।
অরণকোলা এলাকার মাসুদুল ইসলাম বলেন, প্রকল্পের কাজ দায়সারাভাবে করা হয়েছে। কর্মকর্তারা এসব জানেন। তাই বললেও কর্ণপাত করেনি। এ ছাড়া অভিযোগ করলে যদি ঘর না পায় এ ভয়ে ভুক্তভোগীরাও বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন। ফলে যা হবার তাই হয়েছে।
প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তৌহিদুল ইসলাম বলেন, কাজে কোনো কারচুপি বা গাফিলতি হয়নি। তদারকি কর্মকর্তা হিসেবে নিজে কাজ বুঝে নিয়েছি। আশ্রয়ণ প্রকল্পের এলাকাটি নিচু; এ কারণে মাটিতে নোনা ধরে মেঝে ও দেয়াল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এ ছাড়া উপকারভোগীরাও তাদের ঘর রক্ষণাবেক্ষণ না করায় ভেঙে যেতে পারে। জুন মাসের পর এসব বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুবীর কুমার দাশ বলেন, কী কারণে ৮০ পরিবার প্রকল্পের ঘর ছেড়ে গেছেন, আমাদের জানানো হয়নি। সুফলভোগীদের অভিযোগ না থাকায় তালাবদ্ধ এসব ঘর নতুন করে বরাদ্দ দিতে চিঠি দেওয়া হয়েছে। অনুমোদন এলেই প্রকৃত গৃহহীনদের মধ্যে ঘর বিতরণ করা হবে।