ঢাকাশুক্রবার , ২৪ মে ২০২৪
  • অন্যান্য

বিদেশের মাটিতে এমপি খুন !

জয়পত্র ডেস্কঃ
মে ২৪, ২০২৪ ২:৩৪ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

অবিশ্বাস্য এক ঘটনার বর্ণনা পড়লাম ও শুনলাম আমরা। এই প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের একজন সদস্য ভারতের মাটিতে নৃশংসভাবে খুন হয়েছেন। ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ-সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনার পরপর তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছিলেন। এমন একজন সংসদ-সদস্য যদি বিদেশে গিয়ে খুন হন, তাহলে তা এক বড় উদ্বেগের কারণ অবশ্যই। জানা গেছে, ১২ মে স্নায়ুরোগের চিকিৎসা নিতে তিনি স্থলপথে কলকাতা গিয়েছিলেন এবং পরদিন থেকেই রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ ছিলেন। প্রকৃতপক্ষে সেদিনই তাকে হত্যা করা হয় কলকাতার নিউটাউনের বহুতল আবাসন সঞ্জীবা গার্ডেনসের একটি ফ্ল্যাটে। কিলিং মিশনে অংশ নেয় অন্তত পাঁচজন। খুন করার পর তার লাশ টুকরো টুকরো করে চারটি ট্রলি ব্যাগে করে বাইরে নিয়ে সরিয়ে ফেলা হয়। এ খুনের ঘটনায় ৫ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। প্রাথমিকভাবে গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন এসব তথ্য।
সংসদ-সদস্য আনারের হত্যাকাণ্ড অনেক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। প্রথম প্রশ্ন, কেন তাকে হত্যা করা হলো? দ্বিতীয় প্রশ্ন, হত্যাকারী কারা? তৃতীয়ত, এ হত্যাকাণ্ডের মোটিভ কী? বাংলাদেশ থেকে অসংখ্য ব্যক্তি নানা কারণে কলকাতা ভ্রমণ করেন। কিন্তু এসব সাধারণ মানুষের মধ্যে কেউ খুন হয়েছেন কিনা, আমরা মনে করতে পারছি না। অথচ একজন সংসদ-সদস্য খুন হয়ে গেলেন! কার্যকারণ ছাড়া কোনো কিছুই ঘটে না। এ খুনের পেছনেও নিশ্চয়ই বড় ধরনের কারণ রয়েছে। সেই মোটিভ উদ্ঘাটিত হওয়া উচিত অবশ্যই। আমরা আশা করব, ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা তথা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এ হত্যার বিশ্বাসযোগ্য মোটিভ উদ্ঘাটনে সক্ষম হবে। দুই দেশের পারস্পরিক সুসম্পর্কের জন্যও এটা জরুরি। জানা যায়, নিহত আনারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে মামলাও ছিল বেশ কয়েকটি। তিনি ইন্টারপোলের ‘ওয়ান্টেড’ তালিকায়ও ছিলেন বলে খবর বেরিয়েছে। তবে কি কোনো পক্ষের সঙ্গে তার আর্থিক স্বার্থগত কোনো দ্বন্দ্ব ছিল? ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে ঢাকায়। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। খুনের মোটিভ জানতে এবং হত্যাকারী শনাক্ত করতে কাজ করছে কলকাতার পুলিশও। আমরা মনে করি, দুই দেশের গোয়েন্দা সংস্থা তথা পুলিশের সমন্বিত উদ্যোগে প্রকৃত রহস্য বের হয়ে আসবে। সংসদ-সদস্য আনার সত্যি সত্যি চিকিৎসার জন্য কলকাতায় গিয়েছিলেন, নাকি ষড়যন্ত্রকারীরা তাকে বিভ্রান্ত করে সেখানে নিয়ে গিয়েছিল, এ রহস্য উন্মোচন করা গেলে তদন্তকাজ সহজ হবে বলা যায়। দ্বিতীয়ত, হত্যাকারীদের সবাই কি বাংলাদেশের নাগরিক, নাকি কলকাতার পেশাদার খুনিদের দ্বারা ঘটানো হয়েছে এ হত্যাকাণ্ড, সেটিও নিশ্চয়ই তদন্তে বেরিয়ে আসবে। হত্যার জন্য ৫ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছিল বলে যে খবর বেরিয়েছে, সেই টাকা কে কাকে দিয়েছে, সেটা জানা গেলে রহস্যের জাল অনেকটাই ছিন্ন হবে।
আমাদের শেষ কথা হলো, এ হত্যাকাণ্ডকে সাধারণ হত্যা হিসাবে দেখলে চলবে না, বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে হত্যার মোটিভ বের করাসহ হত্যাকারী শনাক্ত করতে হবে। কারণ এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে নিহত সংসদ-সদস্য তথা বাংলাদেশের রাজনীতির ভাবমূর্তি অনেকটাই জড়িয়ে আছে।