ঢাকাবুধবার , ১৫ মে ২০২৪
  • অন্যান্য

ঈশ্বরদীতে প্রতীক পেয়েই মোটরসাইকেল শোডাউন, আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ

জয়পত্র ডেস্কঃ
মে ১৫, ২০২৪ ২:১৭ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

ঈশ্বরদী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রচারণার শুরুতেই চেয়ারম্যান প্রার্থী এমাদুল হক রানা সরদারের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। ভোটারদের প্রভাবিত করা ও নির্বাচনী পরিবেশ বিঘ্নিত করার অভিযোগে রিটার্নিং অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন তার প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ মিন্টু। একই সঙ্গে স্থানীয় এমপি সমর্থিত প্রার্থী পরিচয়ে রানা সরদার নেতাকর্মীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন বলেও অভিযোগ মিন্টুর।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়,আগামী ২৯ মে অনুষ্ঠেয় ঈশ্বরদী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের জন্য গত ১৩ মে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয় । এদিনে স্থানীয় ও পাবনা ৪ আসনের এমপি গালিবুর রহমান শরীফ সমর্থিত প্রার্থী পরিচয় দেয়া উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী এমাদুল হক রানা সরদার আনারস প্রতীক পান। প্রতীক বরাদ্দ অনুষ্ঠানে ৫জন সমর্থক নিয়ে যোগ দেয়ার বিধান থাকলেও রানা সরদার তা মানেননি।
পাবনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে বরাদ্দ পাওয়া আনারস প্রতীক নিয়ে বিকাল চারটায় তিনি আলহাজ্ব মোড় থেকে শতাধিক মটরসাইকেল মিছিল নিয়ে ঈশ্বরদী পোস্ট অফিস মোড়ে আসেন । আগে থেকেই সেখানে জমায়েত রাখা অসংখ্য নেতাকর্মী নিয়ে আনারস প্রতিকের বিশাল মিছিল করেন । একই সঙ্গে মোটরসাইকেল বহর নিয়ে এলাকায় আতংকিত পরিবেশ সৃষ্টি করেন। এতে স্থানীয় এমপির সমর্থক নেতাকর্মীর পাশাপাশি যুবলীগ,স্বেচ্ছাসেবকলীগ ও ছাত্রলীগের বিভিন্ন মামলার আসামি ও চিহ্নিত সন্ত্রাসীরাও অংশ নিয়েছে। যা নির্বাচনী আচরণবিধিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, পোস্ট অফিস মোড়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য গালিবুর রহমান শরীফ ও তার ছোট ভাই উপজেলা যুবলীগ সভাপতি শিরহান শরীফ তমালের অনুসারী নেতাকর্মীরা রানা সরদারের পক্ষে মিছিলে যোগ দিতে সোমবার দুপুর থেকে অবস্থান নেন। বিকাল সাড়ে চারটার দিকে রানা সরদার সেখানে পৌঁছালে মিছিল শুরু হয়। থানা মোড় এলাকায় পুলিশ মোটরসাইকেল শোভাযাত্রায় বাধা দিলে তারা আনারস প্রতীক নিয়ে বিশাল মিছিল সহ ঈশ্বরদী রেলগেট হয়ে বাজার এলাকায় সমাবেশে করে। এ সময় শহরে ব্যপক যানজটের সৃষ্টি হয়।
আবুল কালাম আজাদ মিন্টু বলেন,প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও প্রভাবমুক্ত নির্বাচন অনুষ্ঠানের নির্দেশ দিয়েছেন। ভোটারদের স্বতঃফূর্ত উপস্থিতিতে উৎসবমুখর নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে দলীয় প্রতীক না দিয়ে সবাইকে অংশ নেয়ার সুযোগ তিনি করে দিয়েছেন। কিন্তু প্রচারণার শুরুর দিন থেকেই রানা সরদার আচরণবিধি ভঙ্গ করে মোটরসাইকেল শোডাউন করেছে।
এ ব্যাপারে আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ও হোন্ডা প্রতিকের শক্তিশালী চেয়ারম্যান প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ মিন্টু বলেন,রানা সরদার নিজেকে এমপির সমর্থিত প্রার্থী পরিচয় দিয়ে আমার নেতাকর্মীদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। আনারস ছাড়া অন্য প্রতীকে ভোট দিলে পরিণাম ভালো হবেনা বলে ভোটারদের হুমকি দিচ্ছে । কাজেই সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে,আমি এর প্রতিকার চেয়ে রিটার্নিং অফিসারকে জানিয়েছি। আশা করি তিনি এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবেন।
এ বিষয়ে ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন,রানা সরদারের বিরুদ্ধে আচরণবিধি ভঙ্গের লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। এ বিষয়ে আইনশৃংখলা বাহিনীকে তদন্ত করতে বলা হয়েছে। খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়া হবে। নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের সুযোগ নেই। নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে ।
তবে, আচরণ বিধি ভঙ্গের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আনারস প্রতীকের প্রার্থী এমাদুল হক রানা সরদার। তিনি বলেন,এমপি সাহেব সমর্থন দিয়েছেন কিনা এটি সরাসরি বলতে পারবো না বলার সুযোগও নাই। এটা মনের ব্যাপার। তবে এমপি সাহেবের চাচা লক্ষীকুন্ডা ইউপি চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান শরীফ ও ছোট ভাই যুবলীগ নেতা তমাল শরীফ আমার ভোট করছেন। আচরণবিধি ভঙ্গ করে কোন শোডাউন হয়নি। পথসভা হয়েছে।