প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের মন্ত্রিসভার আকার আরও বাড়তে পারে। বর্তমান সরকারের মন্ত্রিসভায় ৪৩ জন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। তিন থেকে পাঁচজন বাড়িয়ে এ সংখ্যা ৪৮ সদস্য বিশিষ্ট করা হতে পারে।
সরকারদলীয় একাধিক সূত্র বলছে, জুন মাসের শেষের দিকে নতুন করে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী উপমন্ত্রীদের নাম ঘোষণা করা হতে পারে।
সূত্র আরও জানায়, যেসব মন্ত্রণালয় প্রতিমন্ত্রী দিয়ে চালানো হচ্ছে, সেখানে একজনকে মন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। বর্তমান মন্ত্রিসভায় কোনো উপমন্ত্রী না থাকায় এবার মন্ত্রিসভার আকার বাড়লে এই পদে কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।
চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে প্রধানমন্ত্রী ছাড়া প্রথমধাপে ৩৬ জনকে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী করা হয়। এরপর দ্বিতীয় ধাপে মার্চ মাসে আরও সাতজনকে প্রতিমন্ত্রী করা হয়। ফলে মন্ত্রিসভার আকার দাঁড়ায় ৪৩ জনে।
এদিকে নতুন করে কারা আসছেন মন্ত্রিসভায় এ নিয়ে দলের ভেতরে বাইরে চলছে নানান আলোচনা। গতবারের মতো এবারের মন্ত্রিসভায়ও অনেক বেশি নতুনত্ব ও বৈচিত্র্য এনেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এবার শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যে মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়েছে, তাতে অর্ধেকের বেশি নতুন মুখ। ফলে অভিজ্ঞতার ঘাটতির অভিযোগও উঠেছে নতুনদের নিয়ে। তাই দক্ষ, অভিজ্ঞ বিতর্কমুক্ত ব্যক্তিকে নতুন করে মন্ত্রিসভায় জায়গায় করে দেওয়া হবে বলে দলের ভেতর আলোচনা আছে।
টানা চতুর্থবারসহ পঞ্চমবারের মতো গত ১০ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রীসহ ২৯৮জন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য শপথ গ্রহণ করেন। এর একদিন পরে নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়। এদিন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনাকে নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি। এরপর ২৫ জন মন্ত্রী ও ১১ জন প্রতিমন্ত্রীকে শপথ বাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি। মন্ত্রীদের মধ্যে টেকনোক্র্যাট হিসেবে দুইজনেক মন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
গতবারের মতো এবারও আওয়ামী লীগ সরকারের নতুন মন্ত্রিসভায় এখনো পর্যন্ত সবাই দলের। শরিক দলের কাউকে মন্ত্রিসভায় রাখা হয়নি। বর্তমান সরকারের মন্ত্রিসভায় জায়গা হয়নি গত মন্ত্রিসভার ১৫ জন মন্ত্রী ও ১৩ জন প্রতিমন্ত্রীর।
আলোচনায় আছে বর্তমান মন্ত্রিসভায় নতুন করে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে একজনকে পূর্ণমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। এই পদে দায়িত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে আলোচনায় আছেন আওয়ামী লীগের একজন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। এরা দুইজনই দলের হয়ে এমপি নির্বাচতি হয়েছেন।
এছাড়া আওয়ামী লীগের একজন সাংগঠনিক সম্পাদককে উপমন্ত্রীর করা হতে পারে। তিনি এবারই প্রথম এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেতে পারেন কুমিল্লার একজন এমপি। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে একজনকে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন গত সরকারে (টেকনোক্র্যাট) মন্ত্রী ছিলেন তিনজন, তাদের মধ্যে একজনকে এবারও সরকারে রাখা হয়েছে। এর বাইরে টেকনোক্র্যাট হিসেবে মন্ত্রীর দায়িত্বে এসেছেন আরও একজন। তাই নতুন করে মন্ত্রিসভার আকার বাড়লে আরও একজন টেকনোক্র্যাট হিসেবে মন্ত্রীর দায়িত্ব পেতে পারেন।
এছাড়া দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের শরিক জোট আসন পেয়েছে দুইটি। গতবারের শরিক দলের কাউকে মন্ত্রিসভায় রাখেননি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাই এবার শরিকদের মধ্যে এমপি হওয়া দুইজনের মধ্যে একজনকে মন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলে আলোচনা চলছে।
মন্ত্রিসভা সূত্রে জানা গেছে, শেখ হাসিনা সরকারকে এগিয়ে নিতে মন্ত্রিসভাকে আরও বড় করা হতে পারে। এ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সিদ্ধান্ত দিলেই নতুন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রীর নাম ঘোষণা করা হবে।
পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে একজন নতুন করে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। এছাড়া কিছু মন্ত্রণালয়ে আছে সেখানে উপমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী দেওয়া হতে পারে। গতবার যেসব প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী ছিলেন তাদের মধ্যে যাদের কাজের পারফরম্যান্স ভালো তাদেরকে নতুন করে মন্ত্রিসভায় জায়গা দেওয়া হতে পারে।
