ঢাকামঙ্গলবার , ২ এপ্রিল ২০২৪
  • অন্যান্য
আজকের সর্বশেষ সবখবর

১০ বছর ধরে অ্যান্টিবায়োটিক তৈরি হচ্ছিল আটা-ময়দা-সুজি দিয়ে, অভিযানে গ্রেপ্তার ৫

জয়পত্র ডেস্কঃ
এপ্রিল ২, ২০২৪ ৬:৩১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

জয়পত্র ডেষ্ক । রাজধানী ঢাকার অদূরে সাভারে নকল অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ তৈরির একটি কারখানার সন্ধান মিলেছে। দশ বছর ধরে এই কারখানায় তৈরি হচ্ছিল সংক্রমিত রোগ থেকে মুক্তির গুরুত্বপূর্ণ ওষুধ অ্যান্টিবায়োটিক। আটা-ময়দা ও সুজিসহ বিভিন্ন উপাদান দিয়ে দুষ্প্রাপ্য দশ ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক তৈরি করে বাজারে ছাড়ছিল চক্রটি।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) মতিঝিল বিভাগ অভিযান চালিয়ে ওই চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর এ তথ্য । ডিবি বলছে, সেখানে ওষুধ তৈরির পর সেগুলো ট্রাক বা পিকআপে ভরে নিয়ে যাওয়া হতো বরিশালে। এরপর গুদামজাত করে পরে ধীরে ধীরে বিভিন্ন জেলায় পাঠিয়ে দেওয়া হতো । গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- শাহীন,শহীদুল ইসলাম,সিরাজুল ইসলাম,হৃদয় ও হুমায়ুন । তাদের কাছ থেকে চার লাখ ৯৬ হাজার পিস নকল অ্যান্টিবায়োটিক উদ্ধার করা হয়। যার বাজারমূল্য প্রায় দুই কোটি টাকা।
ডিবি বলছে, চক্রটি বাজারে থাকা ও বাজার থেকে বিলুপ্ত এমন ওষুধের মধ্যে রিলামক্স-৫০০ ট্যাবলেট,মক্সিকফ-২৫০,সিপ্রোটিম-৫০০এমজি, এমোক্সস্লিন,জিম্যাক্স,মোনাস-১০ নকল করে ছাড়ত। তারা কাফকা ফার্মাসিউটিক্যালস,ডক্টর টিমস ফার্মাসিউটিক্যালস,জেনিথ ফার্মাসিউটিক্যালস,কুমুদিনি ফার্মাসিউটিক্যালস,ইউনিয়ন ফার্মাসিউটিক্যালসের ওষুধ নকল করত ।
সোমবার রাজধানীর মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এ ব্যাপারে জানান ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) হারুন অর রশিদ । ডিবিপ্রধান জানান, গ্রেপ্তারকৃত শহীদুল দীর্ঘদিন ধরে বরিশাল কোতোয়ালির নথুল্লাবাদ এলাকায় নকল বিভিন্ন ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ মজুদ করতেন। সেগুলো বিভিন্ন পরিবহন ও গ্রেপ্তারকৃত শাহীনের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করে আসছিলেন। হুমায়ুন রাজীব অপসোনিন কোম্পানির বিক্রয়কর্মী হিসেবে চাকরি করতেন। পাশাপাশি বিভিন্ন ফার্মেসিতে নকল অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি করতেন। এছাড়া সিরাজুল ইসলাম ও হৃদয় নকল ওষুধ বিক্রির যাবতীয় কাজে অধিক মুনাফার জন্যে শহীদুলকে সহায়তা করতেন। কারখানায় নকল ওষুধ তৈরি করে সেগুলো কুমিল্লার জনৈক আবু বক্কর বিভিন্ন কুরিয়ারের মাধ্যমে বাজারে সরবরাহ করতেন।
ডিবিপ্রধান হারুন অর রশীদ বলেন, মূলত কুমিল্লার আবু বক্বর এসব নকল ওষুধ তৈরি করে শহীদুলকে দিতেন। তিনি সেগুলো বরিশালে গুদামজাত করে পরে অন্যদের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠিয়ে দেওয়া হতো। যেসব ওষুধ কোম্পানি দেশে নেই এবং যে ওষধুগুলো বাজারে নেই সেগুলোই তারা তৈরি করে বাজারজাত করত। এছাড়া তারা বিভিন্ন ব্রান্ডের ওষুধ নকল করে সেগুলোর ভেতরে আটা, ময়দা ও সুজি ভরে রাখত। আমরা তাদের কাছ থেকে দুই কোটি টাকার নকল ওষুধ উদ্ধার করেছি। এর আগেও তারা কোটি কোটি টাকার নকল ওষুধ তৈরি করে বিক্রিও করেছে। ডিবিপ্রধান বলেন, তারা গত আট থেকে দশ বছর ধরে এই ভেজাল ওষুধ তৈরি করে আসছিল। যারা এসব ওষুধ উৎপাদন করে আমরা তাদেরও খুঁজছি। তাদের নামে এখন পর্যন্ত ১৫টি মামলা রয়েছে। আমরা তাদের তিনজনকে আগেও গ্রেপ্তার করেছি। তারা জামিনে বেরিয়ে আবারও এই ব্যবসা শুরু করে । হারুন জানান, এখন পর্যন্ত ৮০টি ইউনানি ওষুধ কোম্পানির ভেজাল ওষুধ তৈরির বিষয়ে তথ্য তারা ওষুধ প্রশাসনকে দিয়েছেন। সেই অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছে ডিবি।