ঢাকাসোমবার , ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
  • অন্যান্য
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সংরক্ষিত নারী আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাচ্ছেন কারা ?

জয়পত্র ডেস্কঃ
ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২৪ ৬:৩৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

দ্বাদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনে আওয়ামী লীগের আগ্রহী প্রার্থীদের কাছে মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু হচ্ছে মঙ্গলবার। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত দলীয় মনোনয়নের আবেদনপত্র সংগ্রহ ও জমা প্রদানের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।
সাধারণ নির্বাচনের ফলের গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হবে। ৯ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের গেজেট প্রকাশিত হওয়ায় ৯ এপ্রিলের মধ্যে সংরক্ষিত আসনের নির্বাচন করতে হবে।
ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কোনো দল কটি আসন পাবে তা স্পষ্ট হয়ে গেছে। এখন সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচনের তফশিল ঘোষণা করতে কোনো সমস্যা নেই। আগামী সপ্তাহে এ নির্বাচনের তফশিল ঘোষণা করা হবে। তফশিলের পরেও দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু করবে আওয়ামী লীগ। এরপর দলের সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের সভায় প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করা হবে।
সংরক্ষিত নারী আসনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়নে প্রাধান্য পাবেন দলের ত্যাগী এবং মাঠের পরীক্ষিত নারী নেত্রীরা। এক্ষেত্রে নানা কারণে সংসদ নির্বাচনে দলের মনোনয়নবঞ্চিতরাও এগিয়ে আছেন। এছাড়া কেন্দ্রীয় কমিটি ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেত্রীদের দেখা যাবে সংসদে। পাশাপাশি বিভিন্ন পেশার নারীদের নামও শোনা যাচ্ছে। এর মধ্যে আছেন সংস্কৃতি অঙ্গনের তারকারাও। শরিকদের মধ্য থেকে দু-তিনজনকে আওয়ামী লীগের কোটায় সংরক্ষিত আসনের সংসদ-সদস্য করা হতে পারে। তবে এবার নতুনদের বেশি সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রেখেছে আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড।
অর্থাৎ দু-একজন ব্যতিক্রম ছাড়া আগের নারী এমপিদের দ্বাদশ জাতীয় সংসদে জায়গা পাওয়ার সম্ভাবনা কম। আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, এসব বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েই আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়নের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম এমপি যুগান্তরকে বলেন, সংরক্ষিত নারী আসনে দলের মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে ত্যাগী নেত্রীরা প্রাধান্য পান। প্রার্থীর যোগ্যতা ও গ্রহণযোগ্যতা বিবেচনায় নেওয়া হয়। এছাড়া অগ্নিসন্ত্রাস ও বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্য এবং শহিদ পরিবারের সদস্যরাও থাকেন। বিভিন্ন পেশার খ্যাতিমান যারা তারাও থাকতে পারেন। এবারও এ বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে দল মনোনয়ন দেবে।
তিনি আরও বলেন, একবার যাদের মনোনয়ন দেওয়া হয়, সাধারণত পরেরবার তাদের আর দেওয়া হয় না। তবে বিশেষ কারণে দু-একজনের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম হতে পারে বলেও জানান আওয়ামী লীগের এই নেতা। সাধারণ নির্বাচনের ফলের গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হবে। ৯ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের গেজেট প্রকাশিত হওয়ায় ৯ এপ্রিলের মধ্যে সংরক্ষিত আসনের নির্বাচন করতে হবে।
সংবিধান অনুযায়ী একটি রাজনৈতিক দলের ছয়জন নির্বাচিত সংসদ-সদস্য থাকলে ওই দল থেকে একজন প্রার্থী সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ-সদস্য হবেন। সে হিসাবে আওয়ামী লীগ ৩৭টি নারী সংসদ-সদস্য পায়। তবে এবারের সংসদে ৬২ জন স্বতন্ত্র সংসদ-সদস্য রয়েছেন, সেই হিসাবে তারা সম্মিলিতভাবে ১০ জন সংরক্ষিত নারী সদস্য পেতেন। কিন্তু আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৮ জানুয়ারি স্বতন্ত্র এমপিদের সঙ্গে গণভবনে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে স্বতন্ত্র সংসদ-সদস্যরা সংরক্ষিত আসনে মনোনয়নের সিদ্ধান্ত শেখ হাসিনার হাতেই ছেড়ে দেন।
ফলে দ্বাদশ জাতীয় সংসদের ৫০টি সংরক্ষিত আসনের ৪৮টি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ পেতে যাচ্ছে। ১৪ দলীয় জোট ও স্বতন্ত্রভাবে জয়ী সংসদ-সদস্যরা সমর্থন দেওয়ায় আওয়ামী লীগ এ সংখ্যক আসন পেতে যাচ্ছে। জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং জাতীয় সংসদের হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন যুগান্তরকে বলেন, সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়নের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য পাবে মাঠে কাজ করা প্রকৃত নারী নেত্রী, এরপর প্রাধান্য পাবেন ত্যাগী আওয়ামী লীগ পরিবারের সন্তান, এরপর বিভিন্ন পেশার স্বনামধন্য নারীরা-এমন ধারণা আমার। সবকিছুই নির্ভর করছে বিচক্ষণ ও প্রাজ্ঞ রাজনীতিবিদ জননেত্রী শেখ হাসিনার ওপর। তিনি তার দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও বিজ্ঞতা দিয়ে এই মনোনয়নগুলো দেবেন।