ঢাকারবিবার , ২৪ ডিসেম্বর ২০২৩
  • অন্যান্য

১৯ ব্যাংকের ৯২ হাজার কোটি টাকা লুট

জয়পত্র ডেস্কঃ
ডিসেম্বর ২৪, ২০২৩ ৩:৫৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

গত ১৫ বছরে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১ লাখ ৩৪ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ২৪টি বড় ঋণখেলাপির মাধ্যমে ৯২ হাজার ২৬১ কোটি টাকা আত্মসাৎ হয়েছে, যেখানে শুধু জনতা ব্যাংক ও ইসলামী ব্যাংকেই খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় ৫১ হাজার কোটি টাকা। এটি মোট খেলাপি ঋণের ৫৪.৯৬ শতাংশ। গতকাল শনিবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে সিপিডির কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন এ হিসাব তুলে ধরেন।

‘বাংলাদেশের অর্থনীতি ২০২৩-২৪ : চলমান সংকট ও করণীয়’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে সিপিডি জানায়, ২০০৮ সাল পর্যন্ত দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ২২ হাজার কোটি টাকা। বর্তমানে এ খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার কোটি টাকায়। ১৯টি ব্যাংকে ২৪টি বড় ঋণ কেলেঙ্কারির ঘটনায় ৯২ হাজার ২৬১ কোটি টাকারও বেশি আত্মসাৎ হয়েছে।

সংস্থাটির নিজস্ব গবেষণায় দেখা যায়, এ বিশাল অঙ্কের টাকা মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক থেকে হলমার্ক গ্রুপ নিয়ে গেছে ৪ হাজার ৩৫৭ কোটি টাকা। বিসমিল্লাহ গ্রুপ জনতা, প্রাইম, যমুনা, শাহজালাল ও প্রিমিয়ার ব্যাংক থেকে নিয়ে গেছে ১ হাজার ১৭৪ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। বেসিক ব্যাংক থেকে ২০১৫ সালে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার ঋণ নেওয়া হয় জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে। জনতা ব্যাংক থেকে এননটেক্স নিয়েছে ১০ হাজার কোটি টাকা, যা ব্যাংকটির মূলধনের ২৫ শতাংশ। একই ব্যাংক থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে থার্মেক্স গ্রুপ নিয়েছে ৮১৬ কোটি, এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ ২০২০ সালে ১ হাজার ২৪৮ কোটি এবং গ্লোবাল ট্রেডিং ১ হাজার ৭০ কোটি টাকা।

এবি ব্যাংকে ১৬৫ কোটি টাকা ঋণ অনিয়ম হয়। গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের সাবেক এমডি পি কে হালদার ২০২১ সালে ৩ হাজার কোটি টাকার ঋণ অনিয়ম করেন ব্যাংকটিতে। এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকে ২০১৬ সালে ৭০১ কোটি টাকার ঋণ বিতরণে অনিয়ম হয়। বেনামি কোম্পানির মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংক থেকে ৩০ হাজার কোটি টাকা নেয় এস আলম গ্রুপ। একই ব্যাংক থেকে রাজশাহীর নাবিল গ্রুপকে অনিয়মের মাধ্যমে ৭ হাজার ২৪৬ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হয়। এছাড়া সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ও ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক অনিয়মের মাধ্যমে ভুয়া কোম্পানিকে ঋণ দেয় ২ হাজার ৩২০ কোটি টাকা।

এ পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, ২০০৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত জনতা ব্যাংক থেকে ঋণখেলাপি হয়েছে ১৩ হাজার ৪৬৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে বিসমিল্লাহ গ্রুপ ৩৩৩ কোটি, এননটেক্স ১০ হাজার কোটি, থার্মেক্স গ্রুপ ৮১৬ কোটি, এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ ১ হাজার ২৪৮ কোটি এবং গ্লোবাল ট্রেডিংয়ের ১ হাজার ৭০ কোটি টাকা। অন্যদিকে ইসলামী ব্যাংক থেকে এস আলম গ্রুপ ৩০ হাজার কোটি ও নাবিল গ্রুপ ৭ হাজার ২৪৬ কোটি টাকা অনিয়মের মাধ্যমে ঋণ নেয়।

গত ১৫ বছরে ২৪টি বড় ঋণখেলাপির ঘটনায় আত্মসাৎ করা ৯২ হাজার ২৬১ কোটি টাকার মধ্যে শুধু এ দুই ব্যাংকেই ঋণের পরিমাণ ৫০ হাজার ৭১৩ কোটি টাকা। যেখানে সবচেয়ে বেশি অনিয়মে ইসলামী ব্যাংকে ৩৭ হাজার ২৪৬ কোটি টাকা। তবে বিশাল অঙ্কের এ অর্থ হাতিয়ে নিলেও ঋণগ্রহীতারা যৎসামান্য অর্থই প্রদান করেছে বলে জানান সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন। সিপিডির মতে, ব্যাংক ঋণখেলাপি এবং যারা অবৈধ আর্থিক কেলেঙ্কারিতে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এজন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংককে শক্তিশালী করার ওপর তিনি জোর দেন।