ঢাকাশনিবার , ২৩ ডিসেম্বর ২০২৩
  • অন্যান্য

বাজারে ‘পাগলা ঘোড়া’ পণ্যের দাম ১০ টাকা কমলে বাড়ে ১০০

জয়পত্র ডেস্কঃ
ডিসেম্বর ২৩, ২০২৩ ৩:০২ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

পেঁয়াজ, আলু, রসুনের পাশাপাশি ভালো নেই মাছ, মুরগি ও মাংসের বাজারও। গত সপ্তাহে ৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া গরুর মাংস কেজিপ্রতি ৫০ টাকা বেড়েছে। মুরগি ও বিভিন্ন মাছের দামও বেড়েছে। এতে একদিকে যেমন ক্রেতারা আত্মসমর্পণ করছেন, অন্যদিকে প্রতিদিনের খাবার তালিকা থেকেও পুষ্টিবঞ্চিত হচ্ছেন পরিবারের সদস্যরা। মূল্যবৃদ্ধির এই জালে অনেক পরিবার সুষম ও পুষ্টিকর খাবারের পরিমাণ কমিয়ে এনেছেন। খরচ বাঁচাতে নিয়েছেন নানা কৌশল।
গত সপ্তাহে ঢাকায় ৫৯৫ টাকা দরে গরুর মাংস বিক্রি হলেও এ সপ্তাহে কেজিপ্রতি ৫৫ টাকা বেড়ে ৬৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর স্বপ্নসহ অন্যান্য সুপারশপে বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৬৯৯ টাকায়। এ ছাড়া গত সপ্তাহে ১৭০ টাকা দরে বিক্রি হওয়া ব্রয়লার কেজিপ্রতি ২০ টাকা বেড়ে ১৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
গত সপ্তাহে ২৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া লেয়ার মুরগি কেজিপ্রতি ২০ টাকা বেড়ে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া গত সপ্তাহে ৩০০ থেকে ৩১০ টাকা কেজি দরে সোনালি মুরগি বিক্রি হলে এ সপ্তাহে কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়ে ৩৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মাছের বাজার ঘুরে দেখা যায়, বড় সাইজের রুই মাছ কেজিপ্রতি ৪০০ থেকে ৪২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি সাইজের রুইয়ের কেজি ৩৫০ থেকে ৩৬০ টাকা এবং ছোট সাইজের রুই মাছ কেজিপ্রতি ২২০ থেকে ২৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ছোট রুই মাছ গত সপ্তাহের চেয়ে কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা কমলেও অপরিবর্তিত রয়েছে বড় সাইজের রুই মাছের দাম। অপরিবর্তিত দামে বিক্রি হচ্ছে চিড়িংও।
এ ছাড়া গত সপ্তাহে ৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া মাঝারি সাইজের চিংড়ি এ সপ্তাহেও ৬০০ টাকা কেজিতে মিলছে। তবে কেজিপ্রতি ১০০ টাকা কমে ৬০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে মাঝারি সাইজের ইলিশ। বড় সাইজের পাঙাশ ১৮০ ও ছোট সাইজের পাঙাশ ৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া গত সপ্তাহের তুলনায় প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে সিলভার কার্প, কাতল, তেলাপিয়া ও সরপুঁটির দাম।
বড় সিলভার কার্প প্রতি কেজি ২৬০ টাকা, বড় সাইজের কাতল মাছ ৩৫০ থেকে ৩৬০ টাকা, তেলাপিয়া ২২০ টাকা এবং বড় সরপুঁটি ১৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নূর আলম। শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় পরিবারের জন্য বাজার করতে এসেছেন। তিনি বলেন, মানুষের জীবনযাত্রায় একটা বড় পরিবর্তন আসছে। তবে সেটি যত ইতিবাচক তার চেয়ে বেশি নেতিবাচক। গত দুই বছরে আমার প্রতিষ্ঠান আমার বেতন বাড়ায়নি অথচ এই দুই বছরে বাজারে পণ্যের দাম কিন্তু বসে নেই। মাছ, মাংস, সবজি, আলু, পেঁয়াজ কিছুতেই হাত দেওয়া যায় না। বাজারের কথা শুনতেই মনে একটা ভয় কাজ করে।
নূর আলম বলেন, উপায় না পেয়ে অনেক নীতি অবলম্বন করতে হচ্ছে। আগে মাসে চার কেজি পেঁয়াজ লাগলেও এখন দুই কেজিতে মাস পার করতে বলছি। প্রতি সপ্তাহের শুক্রবার গরুর মাংস খেলেও এখন মাসে দুয়েকবার খাই। একই অবস্থা বাকি সব ক্ষেত্রেও। আর কত সংযত হলে দ্রব্যমূল্যের সিন্ডিকেট ভাঙবে-প্রশ্ন করেন এই ক্রেতা।
্বএকজন বাজারী বলেন, যে যেভাবে পারছে মেরে খাচ্ছে। দেশটা এমন অবস্থায় গিয়েছে যে দেখার কেউ নেই। আজ ১০ টাকা কমলে কাল ১০০ টাকা বেড়ে যায়। কী এক আজব নিয়ম! এখানে নিয়ন্ত্রণহীন পাগলা ঘোড়ার মতো চলে সব।