ঢাকাসোমবার , ১৮ ডিসেম্বর ২০২৩
  • অন্যান্য

আজ প্রতীক বরাদ্দ প্রচার শুরু

জয়পত্র ডেস্কঃ
ডিসেম্বর ১৮, ২০২৩ ২:৫০ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ হবে আজ সোমবার। ভোটগ্রহণে দায়িত্বপ্রাপ্ত রিটার্নিং কর্মকর্তারা প্রার্থীকে প্রতীক বরাদ্দ দেবেন। আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা নৌকা, জাতীয় পার্টি নাঙল, জাসদ ও ওয়ার্কার্স পার্টিসহ স্বতন্ত্র প্রার্থীরা নিজ দলের এবং স্বতন্ত্র প্রতীক নিয়ে প্রচারে নেমে পড়বেন। আজ থেকেই শুরু হচ্ছে ভোটযুদ্ধের প্রচার, যা টানা ১৮ দিন চালাতে পারবেন প্রার্থীরা।
গতকাল রবিবার ছিল মনোনয়ন প্রত্যাহার ও জোটের মনোনয়নপত্র চূড়ান্ত করার দিন। ভোটগ্রহণ করা আগামী ৭ জানুয়ারি। এ প্রার্থীরা প্রচারে নিয়ম ভেঙে কিংবা প্রতিপক্ষকে আক্রমণাত্মক অথবা উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে ঘায়েল করার চেষ্টা করলে শাস্তি-জরিমানার মুখোমুখি হবেন প্রতিদ্বন্দ্বীরা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইসির অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, মাঠের প্রচার সোমবার (আজ) থেকে শুরু হবে। কারণ এদিন বরাদ্দ হবে প্রতীক। প্রতীক পাওয়াসাপেক্ষে পথসভা ও ঘরোয়া সভা করতে পারবেন প্রার্থীরা। টানা ১৮ দিন প্রচার চালানোর সময় নির্ধারিত আছে।
ইসির আইন শাখার কর্মকর্তারা জানান, ৩০০ সংসদীয় আসনে অনুসন্ধান কমিটি রয়েছে। তারা প্রার্থীর আচরণবিধি সার্বক্ষণিক তদারকি করছেন। ক্ষমতাসীন দল সমর্থিত অনেক হেভিওয়েট প্রার্থীকে শোকজ ও তলব করা হয়েছে। শোকজের জবাবে সন্তুষ্ট হয়ে অনেককে দায়মুক্তি দিয়েছে। এখনো অনেক প্রার্থীকে কারণ দর্শাতে চিঠি দেওয়া হচ্ছে। তবে আচরণবিধি ভাঙা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ইসি কর্মকর্তারা জানান, সংসদীয় নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণবিধি মালা-২০০৮ ও এর সংশোধনী (২০১৩) অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী বা তার পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি কোনো ট্রাক, বাস, মোটরসাইকেল, নৌযান, ট্রেন কিংবা অন্য কোনো যান্ত্রিক যানবাহন নিয়ে মিছিল করা যাবে না কিংবা কোনো শোডাউন করা যাবে না।
অন্যদিকে সিটি করপোরেশন ও পৌর এলাকায় অবস্থিত দালান, বিল্ডিং, গাছ, বেড়া, বিদ্যুৎ ও টেলিফোনের খুঁটিতে বা যানবাহনে পোস্টার, লিফলেট বা হ্যান্ডবিল লাগানো যাবে না; তবে দেশের যেকোনো স্থানে পোস্টার, লিফলেট বা হ্যান্ডবিল রশিতে ঝুলিয়ে টাঙানো যাবে। মসজিদ, মন্দির, গির্জা বা অন্য কোনো ধর্মীয় উপাসনালয়ে নির্বাচনী প্রচারণা করা যাবে না; মাইকে নির্বাচনী প্রচারণা দুপুর ২টা হতে রাত ৮টার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে; নির্বাচনী প্রচারণার জন্য প্রার্থীর ছবি বা প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণামূলক কোনো বক্তব্য বা কোনো শার্ট, জ্যাকেট, ফতুয়া ইত্যাদি ব্যবহার করা যাবে না; নির্বাচনী ক্যাম্পে কোনো কোমল পানীয় বা খাদ্য পরিবেশন বা কাউকে কোনো উপঢৌকন দেওয়া যাবে না।
বিধিমালায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী কিংবা কোনো প্রতিষ্ঠানে চাঁদা বা অনুদান দেওয়া যাবে না; সরকারি ডাকবাংলো, রেস্ট হাউস, সার্কিট হাউস বা কোনো সরকারি কার্যালয়কে কোনো দল বা প্রার্থীর পক্ষে বা বিপক্ষে প্রচারের স্থান হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না; নির্বাচনপূর্ব সময়ে কোনো সরকারি, আধাসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে রাজস্ব বা উন্নয়ন তহবিলভুক্ত কোনো প্রকল্পের অনুমোদন, ঘোষণা বা ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন কিংবা ফলক উন্মোচন করা যাবে না।
বিধিমালা বলছে, নির্বাচনী প্রচারণায় কোনো গেট বা তোরণ নির্মাণ করা যাবে না কিংবা চলাচলের পথে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা যাবে না; নির্বাচনী প্রচারণার জন্য ৪০০ বর্গফুটের বেশি স্থান নিয়ে কোনো প্যান্ডেল তৈরি করা যাবে না; নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে বিদ্যুতের সাহায্যে কোনো ধরনের আলোকসজ্জা করা যাবে না; কোনো সড়ক কিংবা জনগণের চলাচলের স্থানে নির্বাচনী ক্যাম্প করা যাবে না।
বিধিমালায় আরো বলা হয়েছে, কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যবহৃত পোস্টার ও ব্যানার সাদাকালো হতে হবে; পোস্টারের সাইজ অনধিক ৬০ বাই ৪৫ সেন্টিমিটার এবং ব্যানার অনধিক ৩ বাই ১ মিটার হতে হবে; পোস্টার বা ব্যানারে প্রার্থীর নিজের প্রতীক ও ছবি ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তির ছবি বা প্রতীক প্রকাশ করা যাবে না।
বিধিমালায় পোস্টার ঝুলিয়ে লাগানোর কথা বলা হলেও নির্বাচনের সময় দেয়াল লিখনও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। শুধু দেয়াল নয়, কোনো দালান, থাম, বাড়ি বা ঘরের ছাদ, সেতু, সড়ক দ্বীপ, রোড ডিভাইডার, যানবাহন বা অন্য কোনো স্থাপনায়ও প্রচারণামূলক কোনো লিখন বা অঙ্কন করা যাবে না। এসব বিধিনিষেধ প্রার্থীরা প্রতিপালন করছেন কিনা, তা দেখভালের জন্য আট শতাধিক নিবাহী ম্যাজিস্ট্রেট ভোটের মাঠে রয়েছেন। তারা বিধিনিষেধ অমান্যকারীদের ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে শাস্তি ও জেল-জরিমানা করবেন। ভোটের পর পর্যন্ত দায়িত্বে পালন করবেন।
ইসির তথ্য বলছে, প্রচারণা শুরুর আগেই আচরণবিধি ভেঙেছেন প্রায় অর্ধশত প্রার্থী। রবিবার পর্যন্ত খুলনা, ঢাকা ও বরিশালসহ ১০ বিভাগে নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটির পক্ষ থেকে ইসিতে অভিযোগ পাঠিয়েছে ৩৩ জনের নামে। কুমিল্লা ও বরিশাল বিভাগ থেকে ৫টি করে; সিলেট, রংপুর, ফরিদপুর, খুলনা ও ময়মনসিংহ থেকে ৪টি করে এবং রাজশাহী বিভাগ থেকে ৩টি মোট ৩৩টি। এসব প্রার্থীর মধ্যে ২২ জনকে সতর্ক করা হয়েছে। আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে ৭ জনের বিরুদ্ধে এবং দায়মুক্তি পেয়েছেন ৪ জন।