নিজস্ব প্রতিনিধি । দেশে চলমান রাজনৈতিক সংকট ও অগঠনমূলক রাজনৈতিক অপসংস্কৃতির চর্চা হরতাল –অবরোধে সাধারন মানুষের সাথে ঈশ্বরদীর পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের সাড়ে ৫ শত মানুষের মানবেতর জীবন যাপন যেন কারো চোখেই পড়ছে না ।
প্রায় দেড় মাস যাবত জ্লাও পোড়াও ওঅগ্নিসন্ত্রাসের ভয়ে একমাত্র সম্বল হারানোর ভয়ে মালিকরা তার গাড়ি রাস্তায় বের করতে দিচ্ছে না । আবার তেমনি এই পরিবহনের সাথে জড়িত শত শত ড্রাইভার,হেলপার ও সহকারী শ্রমিকরা জীবন হারানোর ভয়ে গাড়িতে যাচ্ছে না । এর ফলে দিনের পর দিন গাড়ি না চালানো ও পড়ে থাকার কারনে একদিকে যেমন পরিবহন বা গাড়ির মালিকরা তাদের গাড়ির যন্ত্রাংশ হিসেবে টায়ার,ব্রেকওযেল, বাকেপ,গাসকেট,বিয়ারিং,নষ্ঠ হযে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে,তেমনি গাড়ির সাথে জড়িত ড্রাইভার ,হেলপার ও শ্রমিকরা কর্ম হারিয়ে বেকার হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে । অভিজ্ঞতা না থাকায় হুট করে পেশা পরির্তন করে অন্য পেশা ধরতেও পারছে না তারা ।
অন্যদিকে গাড়ির মালিকরা না পারছে গাড়ি বের করতে,না পারছে অন্য কোন কাজে আত্মনিয়োগ করে জীবন ও জীবিকা নির্বাহ করতে ।
সরেজমিনে ঈশ্বরদী খাইরুজ্জামান বাবু বাসটার্মিনাল এলাকা ঘুরে দেখা যায়,শত শত গা[ড়ির দীর্ঘ সারি ধূলাবালি ও গাছের পাতায় ছেয়ে আছে । এ ছাড়াও অনেক গাড়ির মালিক হরতাল-অবরোধে সহিংসতার ভয়ে বাড়িতেই রেখেছেন গাড়ি । সেখাএন অযত্ন আর অবহেলায় নষ্ঠ হচ্ছে গাড়ির যন্ত্রপাতি,সিট ও রং ।
অগ্রদ্রুত গাড়ির মালিক রতন,অমি ট্রাভেলস গাড়ির মালিক বিমল,ইসলাম গাড়ির মালিক হামিদুর জানান ,শুধু ঈশ্বরদীতেই আমাদের মতো দেড় শতাধিক মানুষ গাড়ির মালিক হওয়া সত্বেও তাদের সন্তান সন্ততি ও পরিবার পরিজন নিযে নিদারন কষ্ঠ ভোগ করে দিনাতিপাত করছে ।
গাড়ির চেইন মাষ্টার জাহিদ,নুহু,নূর,হাসান,অগ্রদূত ও অমি গাড়ির ড্রাইভার রায়হান,রকিব,জাহিদুল,দিলু,মকলেস এবং হেলপার মনির হোসেন, তছলিম হোসেন,মিন্টু জানান, রাজনৈতিক নেতাদের টানা পোড়নে আমাদের মতো যারা কাজ করে খায় তাদের জীবন চালানো দূর্বিসহ হয়ে পড়েছে । এ দেশের কোন সরকার বা রাজনৈতিক দল আমাদের কথা কেউ ভাবে না। শুধু হরতাল অবরোধের নামে দেশ ধ্বংস করার জন্র এসি রুমে বসে কর্মসূচি ঘোষনা করে আমাদের জীবনকে দূর্বিসহ হযে পড়েছে । প্রতি ৫ বছর পর পর নির্বাচন আসলে এই অবস্থা আরো তীব্র ও প্রকট আকার ধারন করে । কাজেই কোটি কোটি টাকার রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও দেশের অর্থনীতিকে বিনষ্ট হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করতে হলে সরকারকে সকল দলের সাথে বসে একটি গ্রহনযোগ্য সমঝোতার পথ খুঁজে বের করা উচিত । এভাবে একটি দেশ চলতে পারেনা ।
ঈশ্বরদী বাস-ট্রাক মালিক-শ্রমিক সমিতির সভাপতি আলতাফ হোসেন ও সাধারন সম্পাদক মোঃ দুদু মিযা জানান,আমাদের কষ্টের কথা কেউ জানেনা,শোনেনা,মানেনা কেউ লেখতেও চায়না । বর্তমানে দ্রব্যমূল্যের অস্বাভাবিক বাজারে আমাদের জীবন থমকে গেছে কোন ভাবেই চলছে না,আর পারছি না । এ অবস্থা থেকে আমরা মুক্তি চাই,অবিরাম হরতাল-অবরোধে পরিবহন সেক্টর ধ্বংস হতে বসেছে এ থেকে আমাদের বাঁচান ।
