নিজস্ব প্রতিনিধি । ঈশ্বরদী গার্লস স্কুল এন্ড কলেজের ৩০ জন শিক্ষার্থী এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহন করেছিলেন। এরমধ্যে পাশ করেছে মাত্র তিনজন শিক্ষার্থী। বাকি ২৭ জন শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে। গত (২৬ নভেম্বর) রবিবার প্রকাশিত ফলাফলে এ তথ্য জানা যায় । এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশের হার মাত্র ১০% । অন্যান্য কলেজগুলো থেকে পাশের হারে সর্বনিম্ন অবস্থানে রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি ।
জানা গেছে,১৯২৯ সালের জানুয়ারি মাসে প্রথম ঈশ্বরদী গার্লস স্কুল নামে কার্যক্রম শুরু করলেও ২০১৩ সাল থেকে কলেজ শাখা চালু করা হয় । এসময় প্রতিষ্ঠানটির নতুন করে নামকরন করা হয় ঈশ্বরদী গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ। শুরুতেই ২৭ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়ে শতভাগ পাশ করেছিল। ২০২১ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটির পাশের হার ছিল ৯০ শতাংশ এবং ২০২২ সালে পাশের হার ছিল শতভাগ। স্কুল শাখায় ১৯ জন ও কলেজ শাখায় খন্ডকালীন ১০জন শিক্ষক দিয়েই কলেজ শাখায় পাঠদান করানো হয় ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অকৃতকার্য বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন,স্কুল শাখার শিক্ষক দিয়েই আমাদের পাঠদান করানো হতো। শিক্ষক সংকট থাকার কারনে নিয়মিত পাঠদানও ব্যাহত ছিল। তবে আমাদের পরীক্ষার প্রস্তুতি ও পরীক্ষা ভালো হয়েছে। তারপরও আমরা কেন অকৃতকার্য হয়েছি বুঝতে পারছি না। সবাই ইংরেজি বিষয়েই ফেল করেছে । ঈশ্বরদী গার্লস স্কুল এন্ড কলেজের ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক আব্দুল ওয়ালিদ লিমন বলেন, ২০১৫ সাল থেকে বিগত বছর পর্যন্ত এরকম ফলাফল এমন হয়নি। এবারের ৩০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র তিনজন উত্তীর্ণ হয়েছে আর বাকি সব শিক্ষার্থীরা ইংরেজি বিষয়ে ফেল করেছে। এটার কারন হিসেবে বলতে পারি তাদের ইংরেজি বিষয়ে প্রস্তুতি সম্পূর্ণ ছিলনা। শ্রেণীকক্ষে তাদের পাঠদানে কোন ক্রুটি রাখা হয়নি । তবে বোর্ড চ্যালেঞ্জ করেছি। আশা করছি ফলাফল ভালো হবে ।
এদিকে অভিভাবকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,কলেজ শাখায় শিক্ষক সংকটের ব্যাপারে ম্যানেজিং কমিটির দায়িত্ব ছিল ভূমিকাহীন । স্কুল শাখার শিক্ষকদের দিয়ে পাঠদানের কারনে এমনটি হয়েছে ।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিক্ষক বলেন, কলেজ শাখায় ১০ জন শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তাদের অতি সামান্য সম্মানি দেয়া হয়। সেজন্য এসব শিক্ষকরা নিয়মিত আসেন না এবং পাঠদান করান না। নিয়মিত পাঠদান করালে অবশ্যই শিক্ষার্থীরা পাশ করতো ।
অধ্যক্ষ ড.মোঃ আসলাম হোসেন বলেন,এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় কলেজ শাখা থেকে ৩০ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহন করেছে। এরমধ্যে ২৭ জনই শুধুমাত্র ইংরেজি বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে। তবে এমনটি কেন এবং কি কারনে হয়েছে তা খতিয়ে দেখার চেষ্টা চলছে।
এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি কলেজ শাখা খোলার অনুমতি পেলেও এখনো পর্যন্ত এমপিও ভুক্ত হয়নি। এখানে ৩ জন নিয়োগপ্রাপ্ত ও ৭ জন খন্ডকালীন অবৈতনিক শিক্ষক রয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মুরাদ আলী মালিথা জানান, কলেজ শাখায় বেশির ভাগ শিক্ষক খন্ডকালীন। এসব শিক্ষকদের চাকুরি এমপিও ভুক্ত হয়নি। বিদ্যালয় থেকে তাদের সামান্য সম্মানী দেওয়া হয়। এ সম্মানীতে শিক্ষকের জীবনযাপন সম্ভব নয়। তাই শিক্ষকরা পাঠদানে তেমন আগ্রহ দেখায় না। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদেরও পড়াশোনায় অমনোযোগী থাকার কারনেও এমনটি হতে পারে।
রাজশাহী মাধ্যমিক উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের আঞ্চলিক পরিচালক (কলেজ) প্রফেসর মাহবুবুর রহমান বলেন, যে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফলাফল সন্তোষজনক নয় সেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রনালয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে। ইতিপূর্বে বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমপিও স্থগিত করা হয়েছে। কিন্তু এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির কলেজ শাখা এখনো এমপিও ভুক্তই হয়নি,তাদের আবার কি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে পরবর্তীতে কলেজ শাখা এমপিও’র ক্ষেত্রে অবশ্যই ফলাফল বিবেচনা করবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ।
