দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার কয়েকদিন পর থেকেই নির্বাচন কমিশন ও ক্ষমতাসীন দলের নেতাসহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের কাছ থেকে আভাস আসছে ভোটের তারিখ পেছানোর। এমন পরিস্থিতিতে ভোট কি পেছানো হচ্ছে? এ প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে সব মহলে।
তবে আগামী জানুয়ারি মাসের মধ্যেই নির্বাচন সম্পন্ন করার যে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা আছে- তা মেনেই ভোটের তারিখ পরিবর্তনের কথা ভাবা হচ্ছে। এমনটাই জানা গেছে সরকারের একটি দায়িত্বশীল সূত্র থেকে। বলা হচ্ছে, ৩০ জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচন শেষ করলে কোনো সাংবিধানিক শূণ্যতা সৃষ্টি হবে না।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ৭ জানুয়ারি সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।একজন নির্বাচন কমিশনার ঢাকা টাইমসকে বলেন, সব দলকে- বিশেষ করে বিএনপি নির্বাচনে আসুক তা কমিশন চাচ্ছে। আর বিএনপি যদি নির্বাচনে আসতে রাজি হয়- সে জন্য নির্বাচনি প্রস্তুতি নিতে তাদের যদি সময়ের প্রয়োজন হয় তাহলে নির্বাচনের তারিখ পেছানোর সিদ্ধান্ত নিতে পারে কমিশন। এছাড়া আরও কিছু দল- যারা সরকারবিরোধী আন্দোলন করে যাচ্ছিল বিএনপির সঙ্গে, তাদের কেউ কেউ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন, এখনো দিচ্ছেন। আরও কিছু দল নির্বাচনে আসার ঘোষণা দিতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে। সে ক্ষেত্রে ভোটের তারিখ পেছানোর বিষয়ে ভাবছে কমিশন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, গত ১৫ নভেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার চার দিনের মাথায় ১৯ নভেম্বর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে দেখা করে ভোট পেছানো ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংলাপ আহ্বানের উদ্যোগ নিতে অনুরোধ করেন সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা জাতীয় পার্টির প্রধান পৃষ্ঠপোষক বেগম রওশন এরশাদ। এরপর থেকেই আলোচনায় আসে ভোটের তারিখ পেছানোর বিষয়টি। বিএনপিকে নির্বাচনে আনতে ভেতরে ভেতরে সরকারের লোকজন যে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে- তাতেও ভোটের তারিখ পেছানোর আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে।
আর বিএনপিকে নির্বাচনে আনতে ভোট পেছানোর যে কথাবার্তা চলছে তার প্রথম আভাস পাওয়া যায় গত ২০ নভেম্বর সোমবার নির্বাচন কমিশনার রাশেদা সুলতানার বক্তব্যে। এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘বিএনপি নির্বাচনে আসতে চাইলে ভোটের তারিখ পেছানোর প্রয়োজন হলে নির্বাচন কমিশন তা ভেবে দেখবে। সেই সঙ্গে আইন দেখে ভোটের পথ সৃষ্টি করা হবে। নির্বাচনে আসতে চাইলে দলটি স্পেস পাবে। বিএনপি নির্বাচনে আসতে চাইলে সুযোগ সৃষ্টি করে দেওয়া হবে। ভোট পেছানোরও সুযোগ রয়েছে।’
এর একদিন পর ২২ নভেম্বর বুধবার এ বিষয়ে স্পষ্ট ইঙ্গিত দেন নির্বাচন কমিশনার আনিসুর রহমান। বলেন, একটি বড় দল (বিএনপি) অনুপস্থিত রয়েছে। যদি তারা নির্বাচনে আসতে চায় তাহলে সেক্ষেত্রে আমাদের নির্বাচনের তারিখ পিছিয়ে নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
এদিকে ভোট পেছানোর আলোচনা ওঠার পর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গত ১৯ নভেম্বরও শক্ত অবস্থান স্পষ্ট করেন। বলেন, যথা সময়েই নির্বাচন হবে। তফসিল অনুযায়ী নির্বাচন হবে।
তবে বুধবার তিনি তার এ অবস্থান থেকে সরে যান। বলেন, ইসি যদি ভোট পেছাতে চায় সেক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের আপত্তি নেই।
আর ওবায়দুল কাদেরের এই নরম সুর ভোট পেছানোর আলোচনাকে আরো জোরদার করেছে। ঘুরপাক খাচ্ছে একটাই প্রশ্ন, ‘ভোট কি পেছাচ্ছে?’
ইসির ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ৭ জানুয়ারি সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। তফসিল অনুযায়ী, সংসদ নির্বাচনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ৩০ নভেম্বর। মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ১ থেকে ৪ ডিসেম্বর। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ১৭ ডিসেম্বর। প্রতীক বরাদ্দ ১৮ ডিসেম্বর।
মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার আর মাত্র এক সপ্তাহের কম সময় বাকি থাকলেও এখনো দাবি আদায়ে আন্দোলন করে যাচ্ছে বিএনপি ও সমমনা দলগুলো। তবে এরই মধ্যে বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে থাকা ১২ দলীয় জোটের নেতৃত্বস্থানীয় দল বাংলাদেশ কল্যান পার্টি নির্বাচনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এ জোটের আরও কয়েকটি দল নির্বাচনে আসার ঘোষণা শিগগিরই দিতে পারে বলেও আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
এ বিষয়ে সরকারের একজন প্রভাবশালী মন্ত্রী বলেন, ‘১২ দলীয় জোটের বেশিরভাগ দলই নির্বাচনে যাবে বলে আশা করছি। বিএনপিও শেষ পর্যন্ত নির্বাচনমুখী হতে পারে।
