ঢাকাবুধবার , ২২ নভেম্বর ২০২৩
  • অন্যান্য

ঈশ্বরদীতে ত্যাগী যুবলীগ নেতা রবিকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন

জয়পত্র ডেস্কঃ
নভেম্বর ২২, ২০২৩ ৬:০৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ঈশ্বরদী প্রতিনিধি ।। ঈশ্বরদী পৌর এলাকার সাঁড়া গোপালপুরে এক ত্যাগী যুবলীগ নেতাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে মধ্যযুগীয় কায়দায় হাত- পা বেঁধে নির্যাতন ও জোরপূর্বক স্বীকোরোক্তি আদায়ের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় সংসদ সদস্য নুরুজ্জামান বিশ্বাসের শ্যালক কথিত যুবলীগ নেতা ইমতিয়াজ চৌধুরী মিলনের বিরুদ্ধে । ভুক্তভোগী ৩নং ওয়ার্ড যুবলীগের সাবেক সভাপতি মোঃ রবিউল ইসলাম রবি ( ৫২)। তার পিতার নাম আজগর আলী মোল্লা । নির্যাতনের পর ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে রবিউলকে আগ্নেয়াস্ত্রসহ রাত ৪টার দিকে পুলিশেও সোপর্দ করা হয়েছে বলে তার পরিবার অভিযোগ করেন ।
২১ নভেম্বর মঙ্গলবার গভীর রাতে ঈশ্বরদী পৌর এলাকার সাঁড়া গোপালপুর মিলনের ব্যক্তিগত যুবলীগ অফিসে এ ঘটনা ঘটে । ঘটনার সময় যুবলীগ অফিসে ঈশ্বরদী উপজেলা যুবলীগের সভাপতি শিরহান শরীফ তমাল, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের যুগ্ন আহবায়ক সজিব মালিথা,যুবলীগ নেতা শেখ সীমান্ত,মিলন চৌধুরীর ছোট ভাই দ্বীপ চৌধুরীসহ একাধিক যুবলীগ নেতা কর্মী রবির উপরে নির্য়াতনে লিপ্ত ছিলেন ।
ভুক্তভোগী রবিউলের স্ত্রী রোজিনা খাতুন ঈশ্বরদী আওয়ামীলীগ অফিসে এসে সাংবাদিকদের সামনে তার শিশু সন্তান কোলে নিয়ে কান্না জড়িত কন্ঠে জানান,মঙ্গলবার রাত ১২ টার দিকে সাঁড়া গোপালপুরস্থ রবির নিজ বাড়ি থেকে কয়েকটি মোটর সাইকেলে করে আসা একদল যুবকসহ মিলন চৌধুরীর ছোট ভাই দীপ চৌধুরী ডেকে নিয়ে যায়। রাত দেড়টার দিকে তিনি প্রতিবেশীদের কাছে খবর পান,মিলন চৌধুরী ও তার লোকজন রবিউলকে বেদম মারপিট করে পার্শ্ববর্তী রেল লাইনের উপর ফেলে রেখেছে । সেখানে গিয়ে তিনি জানতে পারেন তার স্বামীকে অস্ত্রসহ পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে। রোজিনা খাতুন আরো জানান, রবিউল দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে পাবনা ৪ আসনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ঈশ্বরদী উপজেলা আওয়ামীলীগের বিপ্লবী সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পৌর মেয়র আবুল কালাম আজাদ মিন্টুর অনুসারী । অন্যদিকে মিলন চৌধুরী ,বর্তমান সংসদ সদস্য নুরুজ্জামান বিশ্বাস ও ঈশ্বরদী পৌরসভার মেয়র ইছাহক আলী মালিথার অনুসারী ।
দীর্ঘদিন ধরে রবিউলকে মেয়র মিন্টুর পক্ষ ত্যাগ করে তার সাথে কাজ করার জন্য মিলন চাপ দিয়ে আসছিল । গতকাল রাতে মিলনের অফিসে নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক মিলন চৌধুরীর সাথে রবিউলের ছবি তুলে মিলনের সাথে যোগ দিয়েছেন বলে ফেসবুকে পোস্ট দেয় মিলনের অনুসারীরা । রবিউল এই ঘটনার প্রতিবাদ করলে তাকে জোর করে ধরে নিয়ে গিয়ে মধ্যযুগীয় কায়দায় মারধোর করে রেললাইনের উপর ফেলে হত্যার ভয় দেখিয়ে স্বীকোরোক্তি আদায় করে ফেসবুকে লাইভ করে তারা ।
এদিকে,রবিউলকে নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে । ভিডিওতে দেখা যায়, রবিউলকে হাত পা বেঁধে রেল-লাইনে ফেলে পেটাচ্ছেন কয়েকজন যুবক। মিলন চৌধুরী রবিউলকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে তাকে নানা প্রশ্ন করছেন । জঙ্গলে ওঁত পেতে থাকা রবিউলের কাছে একটি আগ্নেয়াস্ত্র গুলিসহ পাওয়া গেছে জানিয়ে আবুল কালাম আজাদ মিন্টু ও জুবায়ের বিশ্বাস,মিলন ও দীপকে হত্যার জন্য পাঠিয়েছেন কিনা জানতে চাইছেন। একপর্যায়ে,রবিউল তা স্বীকার করলে মিলন বলেন, মিন্টু ও জুবায়েরের সাথে বিএনপির কয়েকজন কর্মী আওয়ামীলীগ শেষ করতে তাকে পাঠিয়েছেন । এ সময় রবিউল আওয়ামীলীগকে নির্যাতন করে শেষ করা যায়না বলে প্রতিবাদ জানালে আবারো তার উপর নির্য়াতন চালান হয় ।
পুলিশ সূত্র জানায়,এলাকাবাসী এবং স্ত্রী রোজিনার ফোন পেয়ে সাঁড়াগোপালপুর এলাকায় রেল লাইনের ওপর থেকে রবিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয় । এসময় একটি দেশীয় ওয়ান সার্টারগান উদ্ধার হয় । তবে রবির বিরুদ্ধে থানায় কেউ কোন অভিযোগ দাখিল করেনি বলে জানা গেছে । ফেসবুকের লাইভ এবং রবিকে আহত অবস্থায় উদ্ধারের পর থানা পুলিশের তৎপরতা শুরু হয় । পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাসুদ আলম, ডিবি এবং র্যা ব ঈশ্বরদীতে অবস্থান নেয় ।
ঈশ্বরদী প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক জানান,মিলন চৌধুরীর লোকজন প্রেসক্লাবে এসে সংবাদ সম্মেলন করতে চেয়েছিলেন এবং সেখানে মিলনের উপর নাটকীয় আক্রমনের কারণ বলতে চেয়েছিলেন কিন্তু প্রশাসনের কড়া নজরদারী থাকায় পরে সে সংবাদ সম্মেলন স্থগিত করেন ।
এদিকে,রবিউলকে মারপিটের কথা স্বীকার করলেও,তুলে আনার কথা অস্বীকার করে মিলন চৌধুরী বলেন,রবিউল আগ্নোয়স্ত্র নিয়ে তাকে হত্যার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জঙ্গলে লুকিয়ে ছিলো, সে গুলি ভরা বন্দুকসহ হাতে নাতে ধরা পড়েছে, সে মিন্টু ও জুবায়েরের নির্দেশে এসেছে বলে আমার কাছে স্বীকার করেছে,ঘটনার উত্তেজনায় আমার সমর্থকরা রবিউলকে মারধোর করে অস্ত্রসহ পুলিশে সোপর্দ করেছে ।
এ ব্যাপারে উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও যুবলীগ নেতা যুবায়ের বিশ্বাস বলেন,আমার শ্রদ্ধেয় নেতা আলহাজ্ব আবুল কালাম আজাদ মিন্টুর ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করা এবং মনোনয়ন ঘোষণার পূর্বমূহুর্তে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে এই মিথ্যা নাটক সাজানো হয়েছে । সুষ্ঠু তদন্ত পূর্বক প্রকৃত দোষিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য আমি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছি ।
আগ্নোয়াস্ত্র সহ রবিউলকে পুলিশে দেয়ার ঘটনাকে পরিকল্পিত নাটক দাবি করে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব আবুল কালাম আজাদ মিন্টু বলেন,মিলন চৌধুরীর কোন দলীয় পদ নেই,রবিউল আওয়ামীলীগের একজন ত্যাগী কর্মী,সাবেক যুবলীগ নেতা,তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাস,চাঁদাবাজির কোন অভিযোগও নেই । জাতীয় নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন সামনে রেখে আমার ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতেই আমার ও আমার অনুসারী জুবায়ের বিশ্বাসের নামে মিথ্যে অপবাদ দেয়া হচ্ছে,আমি এ ঘৃণিত কর্মকান্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি । একই সাথে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করছি ।
পাবনা ৪ আসনের সংসদ সদস্য নুরুজ্জামান বিশ্বাস বলেন, মিলন আমার দূর সম্পর্কের শ্যালক । তাদের একটি ঝামেলা হয়েছে বলে শুনেছি । আমি ঢাকায় আছি । ঘটনার সাথে আমার কোন সম্পৃক্ততা নেই ।
ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী বলেন, অস্ত্রসহ রবিকে উদ্ধারের ঘটনার মধ্যে রহস্য আছে । রবির বিরুদ্ধে থানায় কোন অভিযোগ দায়ের বা মামলা হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন,সুষ্ঠ তদন্ত করে প্রকৃত দোষিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে । তবে,৫৪ ধারায় তাকে চালান দেওয়া হয়েছে ।
পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, রবিউল থানায় আটক রয়েছেন । তবে, সোপর্দকারীদের বর্ণনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে । প্রকৃত ঘটনা কি খতিয়ে দেখে দোষী যেই হোক তার বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে।