ঈশ্বরদী প্রতিনিধি : ঈশ্বরদী পৌর এলাকার সাঁড়া গোপালপুরে শাহ সুফি হযরত বাবা কালাচাঁদ ফকির চিশতিয়া (র:) এর ১২তম ওফাত দিবস উপলক্ষ্যে ৫দিন ব্যাপী (৮-১২ অক্টোবর) শুরু হয়েছে ওরশ মোবারক । জাকজমকপূর্ন পরিবেশে বীরমুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব নুরুজ্জামান বিশ্বাস এমপি প্রধান অতিথী হিসেবে এবং ঈশ্বরদী পৌরসভার মেয়র মোঃ ইছাহক আলী মালিথা উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত থেকে ওরশের শুভ উদ্বোধন করেন ।
ঈশ্বরদী পৌরসভার প্যানেল মেয়র ও ৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোঃ আবুল হাশেমের সঞ্চালিত ওরশ মোবারকের অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব নায়েব আলী বিশ্বাস,ঈশ্বরদী প্রেসক্লাবের সভাপতি মোস্তাক আহমেদ কিরন,পাবনা জেলা পরিষদ সদস্য তৌফিকুজ্জামান রতন মহলদার,ইমতিয়াজ চৌধুরী মিলন প্রমুখ ।
হওয়ার কথা ওরশ অথচ মাদক সেবনের খোলা কারখানা হিসেবে সেখানে প্রকাশ্যে বসানো হয়েছে, মাদকের জমজমাট আসর ।
দেশে জাতীয় নির্বাচনকালীন সময়ে রাজনৈতিক পরিবেশ অস্থিতিশীল করে বিএনপি-জামায়াতের ডাকা অবৈধ হরতাল-অবরোধে নাশকতা,আগুন-সন্রাস ও নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টির কারিগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও ঈশ্বরদী প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারন সম্পাদক এস.এম ফজলুর রহমান এর সভাপতিত্বে ওরশের নামে আয়োজিত মেলায় মাদক,জুয়া নিষিদ্ধ থাকলেও স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই বসানো হয়েছে এ অবৈধ মাদকের আসর।
বৃহস্পতিবার (৮ নভেম্বর) বিকাল থেকে শুরু হওয়া ওরশ আজ ১২ নভেম্বর শেষ হচ্ছে । প্রতিদিন সন্ধার পর কালাচাঁদ বাবার ওরশ প্রাঙ্গন অশ্লিল নৃত্য,মাদকের রমরমা আসর,ধর্মীয় গান-বাজনা ও মজমায় মুখরিত হয় ।
মাজার প্রাঙ্গন ঘুরে দেখা যায়,সাঁড়াগোপালপুর মাজারের চারপাশে আলোকসজ্জা দিয়ে সাজানো হয়েছে । সেই মাজারকে ঘিরে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত কাঁলাচাদ ফকিরের আশেকান ও ভক্তবৃন্দ মাজারের খাদেম ও বিএনপি নেতা রেজাউল ওরফে ডিশ রেজাউল এর পায়ের কাছে মাথা রেখে সারি বেধে নারী পুরুষ ভক্তরা পা ছুয়ে সালাম করছে ও আরাধনা করছে । মাজারের মাঠে বসেছে রকমারী সব দোকান পাট। সেসব দোকানে খই, মুড়ি, চপ, নিমকি, পিয়াজি, ভাজাপোড়া ও জিলাপিসহ নানা পদের খাদ্যসামগ্রী বিক্রি হচ্ছে । অস্থায়ী এসব দোকান থেকে প্রতিরাতে দুই হাজার থেকে দশ হাজার পর্যন্ত করে নেওয়া চাঁদার টাকা আবার বিভিন্ন নামে ভাগ হচ্ছে । এদিকে মাজারের পাশেই কিছু ভক্তরা বসেছে মাদকের আসর নিয়ে । সেখানে গাঁজাসহ অন্যান্য মাদক ও মাদকযন্ত্রও বিক্রি করতে দেখা গেছে । প্রতিদিন বিকেল থেকেই জমতে থাকে এইসব মাদকের দোকান । চলে সারারাত । মাজার প্রাঙ্গণ যেন,নেশার স্বর্গরাজ্য ও নিরাপদ স্থান । দলে দলে আস্তানায় চলছে মাদক সেবন । মেলা প্রাঙ্গণের বাতাসে বইছে গাঁজার গন্ধ । স্থানে স্থানে কালাচাঁদ ফকিরের ভক্তরা গাঁজার আসর বসিয়ে সেবন করছেন গাঁজা । এ মাদক সেবনে যোগ দিচ্ছেন জেলার বিভিন্নস্থান থেকে আসা যুবকরা। তারা মনে করেন কালাচাঁদ বাবার মেলায় এসেছেন আর গাঁজা খাবেন না তা কি করে হয় ? অবস্থাদৃষ্ঠে মনে হয়,এ যেনো ওরসের নামে মাদকসেবীদের মহামিলন ।
তবে প্রশাসন এতসব দেখেও যেন না দেখার ভ্যান করে নিরব দর্শকের ভুমিকা পালন করছে । শুধু প্রশাসন নয়,স্থানীয় কিছু সাংবাদিকেরও ইন্ধন রয়েছে ওরশের নামে এ মাদকের আসরে ।
স্থানীয়রা জানান,এখানে ওরশের নামে প্রকাশ্যে মাদক বেচা-কেনা ও মাদক সেবনের আসর বসে । আমাদের ছেলেমেয়েরা এসব দেখে খারাপ পথে চলে যাচ্ছে । ওরশের অনুমোদন কোথা থেকে নিয়েছে,কে দিয়েছে জানিনা,তবে ওরশের অনুমোদন থাকলেও যুবসমাজ ধ্বংসকারী মাদক বেচা-কেনা কিংবা মাদক সেবনের কোন অনুমোদন আছে বলে আমাদের জানা নেই । মাজার কমিটির সভাপতি ও খাদেমের সাথে এ ব্যাপারে কথা বলার চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি ।
ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অরবিন্দ সরকার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী বলেন,মাজার শরিফের ওরশে লাখ লাখ লোকের সমাগম হয়। সেখানে সব ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানোর জন্য পর্যাপ্ত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে । আমরাও জানতে পেরেছি ওরশে মেলার নামে মাদকের আসর বসেছে,আমরা মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে দ্রুত তা বন্ধ করতে ব্যবস্থা নিচ্ছি ।
