সব জল্পনাকে পেছনে ফেলে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের দিকেই এগিয়ে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। সংবিধান অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নির্বাচন আয়োজনে বদ্ধপরিকর ইসি। নির্বাচন কমিশন সচিব মো. জাহাঙ্গীর আলম জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহেই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হবে। তিনি দিনক্ষণ নির্দিষ্ট করে না বললেও সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র বলছে, আগামী ১৪ নভেম্বর ঘোষণা হতে পারে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল।
নির্বাচন ভবনে নিজ দপ্তরে গতকাল বুধবার (৮ নভেম্বর) সাংবাদিকদের সঙ্গে তফসিল ঘোষণা প্রসঙ্গে কথা বলেন নির্বাচন কমিশন সচিব মো. জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, সব ধরনের প্রস্তুতি গুছিয়ে আনা হয়েছে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার মতো পরিবেশ রয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনে বদ্ধপরিকর ইসি।
ইসি সচিব জানান, রেওয়াজ অনুযায়ী তফসিল ঘোষণার আগে কমিশন রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (আজ) এ সাক্ষাতের সূচি রয়েছে। বৈঠকে রাষ্ট্রপতিকে নির্বাচন প্রস্তুতি সংক্রান্ত সব ধরনের অগ্রগতি বিষয়ে অবহিত করবেন সিইসি। রাষ্ট্রপতির পরামর্শ ও নির্দেশনা থাকলে তা কমিশন শুনবে। তবে তফসিল ঘোষণার এখতিয়ার সম্পূর্ণ নির্বাচন কমিশনের।
সূত্র জানিয়েছে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কাঙ্ক্ষিত তফসিল ঘোষণার শুধু অপেক্ষা এখন। আজ বৃহস্পতিবার (৯ নভেম্বর) দুপুর ১২টায় রেওয়াজ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যাচ্ছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়ালের নেতৃত্বাধীন কমিশন। অন্যদিকে আগামী ১৩ নভেম্বর খুলনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে আওয়ামী লীগের জনসভায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এটাই তফসিলের আগে প্রধানমন্ত্রীর শেষ জনসভা।
সূত্র বলছে, ১৩ নভেম্বর রাতেই তফসিল ঘোষণা সংক্রান্ত ভাষণ রেকর্ড করার পর ১৪ নভেম্বর দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে। সিইসি জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরবেন। জানুয়ারির প্রথম দিকে ভোটগ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। নির্বাচন কমিশন সচিব মো. জাহাঙ্গীর আলম জানিয়েছেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরিবেশ রয়েছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ভোট সংক্রান্ত প্রচার শুরু করেছে কমিশন।
সূত্র আরো জানায়, রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনে এখন পর্যন্ত যেসব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে তার সারসংক্ষেপ জানাবে কমিশন। ভোটগ্রহণের পরিকল্পনা সম্পর্কেও রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করা হবে। প্রস্তুতি নিয়ে রাষ্ট্রপতির পরামর্শ ও নির্দেশনা দিলে তা শুনবে কমিশন। এরপরই আগামী সপ্তাহে কমিশন সভা করে নির্বাচনের তফসিল চূড়ান্ত করবে ইসি। জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তফসিল ঘোষণা করবেন সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন বিটিভি ওই ভাষণ সম্প্রচার করবে। ওই ভাষণে সব দলকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানাবেন সিইসি। ওই ভাষণে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণে নির্বাচন আয়োজন করছেন বলেও জানাবেন সিইসি হাবিবুল আউয়াল।
সংবিধান অনুযায়ী, জাতীয় সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের ৯০ দিনের মধ্যে ভোটগ্রহণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। একাদশ জাতীয় সংসদের মেয়াদ আগামী ২৯ জানুয়ারি শেষ হবে। এই হিসাবে আগামী ২৮ জানুয়ারির মধ্যে ভোটগ্রহণের কথা রয়েছে। ওই সময়ের মধ্যেই নির্বাচন করতে যাচ্ছে কমিশন। যদিও নির্বাচনকালীন সরকার পদ্ধতি পরিবর্তনের দাবিতে বিএনপিসহ বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল নির্বাচন আয়োজনের বিরোধিতা করে আসছে। এই ইস্যুতে অনেক দল নির্বাচনে অংশ নেবে না বলেও জানিয়ে আসছে। তবে তাদের ওই দাবি আমলে নিচ্ছে না ইসি। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কথা জানিয়ে নির্দিষ্ট সময়ে ভোটগ্রহণে অনড় কমিশন।
নির্বাচন কমিশন সচিব গতকালও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভোটগ্রহণের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন, নভেম্বর মাসের দ্বিতীয়ার্ধের যেকোনো দিন তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে। সে হিসেবে ডিসেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহে বা জানুয়ারির মাসের প্রথম সপ্তাহে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা নিয়ে এখনো কমিশন সভা অনুষ্ঠিত হয়নি।
আগামী ১৪ নভেম্বর মধ্যে তফসিল ঘোষণা করা হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, কমিশন যখন সিদ্ধান্ত নেবে, তখন তা গণমাধ্যমে জানানো হবে। নির্বাচন কমিশনের যেসব প্রস্তুতিমূলক কাজ রয়েছে, তার সব এগিয়ে রয়েছে। নির্বাচনী সরঞ্জামও ধাপে ধাপে জেলা পর্যায়ে পাঠানো হচ্ছে। কয়েকটি রাজনৈতিক দলের বিরোধিতার মুখে নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার বিষয়ে সচিব বলেন, পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মাঠে থাকবেন। ভোটাররা নির্বিঘ্নে যাতে ভোট দিতে পারেন সে বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পরিপত্র জারি করবে।
নির্বাচনী প্রচার শুরু : আসন্ন সংসদ নির্বাচনে ভোটারদের উৎসাহিত করতে প্রচার চালাবে নির্বাচন কমিশন। বুধবার নির্বাচন কমিশনের ফেসবুক পেজে ওই প্রচার শুরু হয়েছে। ২০০৫ সালের ১ জানুয়ারির আগে যাদের জন্ম, সেসব ভোটার এ নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন বলে প্রচার চালানো হচ্ছে। এও বলা হচ্ছে, ওই সময়ের পরে যাদের জন্ম তাদের পরিচয়পত্র থাকলেও তারা ভোট দেওয়ার যোগ্য হবেন না। নির্বাচনে ভোট দিতে জাতীয় পরিচয়পত্র থাকার প্রয়োজন হবে না বলে জানিয়েছে ইসি।
