ঢাকাশনিবার , ২১ মে ২০২২
  • অন্যান্য

ঈশ্বরদীতে ধান সিদ্ধ করতে তুষের পরিবর্তে ক্ষতিকারক ঝুট ব্যবহার

নিজস্ব প্রতিবেদক
মে ২১, ২০২২ ১০:৫১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ঈশ্বরদীতে ধানের চাতালে ধান সিদ্ধ করতে তুষের পরিবর্তে এখন ঝুট ব্যবহার শুরু হয়েছে। অতিরিক্ত মুনাফার আশায় হাসকিং মিলের চাতাল মালিকরা পরিবেশের বিষয়টি বিবেচনায় না নিয়ে বিভিন্ন জুতা, ক্যাপ, ফোম ও প্লাস্টিক জাতীয় কারখানার ঝুট ব্যবহার করে নিজেরা লাভবান হলেও প্রাকৃতিক পরিবেশ ও মানুষের জীবনমান হুমকির মূখে পড়ছে। ঝুট ব্যবহার শুরু হওয়ায় অল্প সময়ের মধ্যেই বয়লারের আশেপাশের গাছপালার পাতা রং বদলেছে এবং কুকড়ে যাচ্ছে। বাজারে তুষের দাম বেড়ে যাওয়ায় চাতাল মালিকরা ধানের তুষ নিজেরা জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার না করে অটো রাইচ মিলের কাছে আবার কেউ কেউ গরু ও মুরগির খাদ্য প্রস্তুতকারীদের নিকট বিক্রি করছে। দু’য়েকটি বাদে প্রায় সাড়ে তিনশত চাতালে জ্বালানী হিসেবে এখন তুষের পরিবর্তে ঝুট ব্যবহার হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এক কেজি ঝুটের দাম পাঁচ টাকা। আর তুষের দাম ১০-১২ টাকা ধান সিদ্ধ করতে তুষের চেয়ে রাবার, প্লাস্টিক ও ফোমের ঝুটে জ্বালানীর তাপ ও স্থায়িত্ব অনেক বেশী। এক বস্তা ধানে ১৫ কেজি তুষ পাওয়া যায়। ২৫০ বস্তা ধান থেকে প্রায় ২৫০ বস্তা তুষ পাওয়া যায়। ২৫০ বস্তা ধান সিদ্ধতে তুষ লাগে প্রায় ১০০ বস্তা। উদ্বৃত্ত থাকে প্রায় ১৫০ বস্তা। কিন্তু তুষের দাম বেড়ে যাওয়ায় এবং ঝুটের দাম কম থাকায় চাতাল মালিকরা পরিবেশের বিষয়টি বিবেচনায় না নিয়ে ঝুট ব্যবহার শুরু করেছেন। তুষ বাইরে বিক্রি করলে প্রতি ২৫০ বস্তা ধান সিদ্ধতে ১০-১২ হাজার টাকা বেশী লাভ হয়।

চাউলকল মালিক সমিতির সভাপতি জুলমত হায়দার জানান, বর্তমানে ৩০৮টি হাসকিং ও ১৭টি অটো রাইচ মিল গুদামে খাদ্য সরবরাহের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছে। চুক্তির বাইরেও বেশ কিছু চাতাল রয়েছে। খরচ কম হওয়ায় এবং তুষ বিক্রি করে বেশী লাভ হওয়ায় তুষের পরিবর্তে ঝুট ব্যবহার হচ্ছে। বর্তমানে ধান ভেজা থাকায় অটো রাইচ মিলে জ্বালানীর জন্য অতিরিক্ত তুষ বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। এছাড়া গরু ও মুরগির খাদ্য প্রস্তুতকারী কারখানা গুলো তুষ কিনে রিফাইন করে ৩৮-৪০ টাকা কেজিতে বাজারে বিক্রি করছে। চাতাল মালিকরা ১০-১২ টাকা কেজি দরে তুষ বিক্রি হচ্ছে বলে জানান তিনি।

জয়নগর সম্পদ ট্রেডার্সের মালিক মনজুর রহমান জানান, তিনি এবং আর দু,য়েকজন ছাড়া সকলেই তুষের পরিবর্তে ঝুট ব্যবহার করছেন। তিনি জার্মান প্রযুক্তির বয়লার ব্যবহার করে ২৫০ বস্তা ধান থেকে জ্বালানী তুষ বাদ দিয়ে প্রায় ১৫০ বস্তা বাইরে বিক্রি করেন। যেসব মিলে ঝুট ব্যবহার হচ্ছে তার আশেপাশের গাছপালায় ইতোমধ্যেই ক্ষতিকারক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বলে জানান তিনি। বেশী লাভের জন্য পরিবেশ বান্ধব নয় এবং মানুষের জীবন ক্ষতিকারক হয় এমন কিছু করা উচিত নয় বলে তিনি জানিয়েছেন।

ঈশ্বরদীর অরোণকোলা এলাকার মাহফুজ কটন মিল ছাড়াও বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ঢাকা থেকে এসব ঝুট কিনে এনে ঈশ্বরদীর চাতালগুলোতে সরবরাহ করছেন। ঝুট সরবরাহকারী শফিকুল ইসলাম জানান, ঢাকা থেকে ঝুট এনে চালকলে সাড়ে পাঁচ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন। তিনি তূলার ব্যবসা করলেও কাপড়ের ঝুটে আগুনের স্থায়িত্ব কম হওয়ায় বিভিন্ন জুতা, ক্যাপ, ফোম ও প্লাস্টিক জাতীয় কারখানার ঝুট সরবরাহ করছেন। এগুলো ব্যবহার করলে অনেকক্ষণ জ্বলে বলে জানান। পরিবেশের ক্ষতি প্রসংগে তিনি বলেন, সকলেই তো জ্বালাচ্ছে।

এবিষয়ে উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা শরফিুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি পরিবেশ অধিদপ্তরের। তারপরও আমরা মনিটরিং করবো।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পি এম ইমরুল কায়েস বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ-খবর নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

পরিবেশ অধিদপ্তরের পাবনার সহাকারি পরিচালক নাজমূল হোসাইনের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলেও তিনি পোন রিসিভ করেননি