ঢাকাবৃহস্পতিবার , ১৯ মে ২০২২
  • অন্যান্য

ঈশ্বরদীতে পুলিশ সদস্যের মানবিকতায় চিকিৎসা পেল ভারসাম্যহীন যুবক

নিজস্ব প্রতিবেদক
মে ১৯, ২০২২ ৯:৫১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

গাছের নিচে শুয়ে পায়ের ব্যথায় কাতরাচ্ছিলেন মানসিক ভারসাম্যহীন (পাগল) এক যুবক। পা কেটে পঁচন ধরেছে। মাছি বসছে পঁচন ধরা পায়ে। ব্যথার সঙ্গে শরীরে জ্বর এসেছে। গাছের পাশের সড়ক দিয়ে চলাচল করছেন শত শত মানুষ। কিন্তু কেউ ভারসাম্যহীন যুবকটির দিকে তাকিয়েও দেখছেন না।

ওই গাছের পাশ দিয়ে যাওয়ার পথে ব্যথায় কাতরানোর শব্দ শুনে এগিয়ে গেলেন এক পুলিশ সদস্য। দেখলেন পচে যাওয়া পায়ের তলায় মাছি বসেছে। শরীর ছুঁয়ে অনুভব করলেন জ্বরের তীব্রতা। পুলিশ সদস্য ছুঁটে গেলেন পাশের একটি চিকিৎসকের চেম্বারে। তাঁকে সঙ্গে এনে যুবকের পা পরিস্কার করে ব্যান্ডেজ করে দিলেন। কিছু খাবার কিনে দিয়ে ঔষধও খাওয়ালেন। আশপাশের মানুষজনদের বললেন তাঁকে যেন দেখে রাখেন।

ডিউটি শেষে সে আবারও এসে ওই যুবকটিকে ঔষধ খাইয়ে যাবেন। একজন পুলিশ সদস্যের এমন মহানুভবতা দেখে অনেকেই হতবাক হয়েছেন।

পথচারী মিথুন বলেন, পাগলের চিকিৎসা হচ্ছে দেখে পাশে গিয়ে দাঁড়ালাম। নোংরা,জীর্ণশীর্ণ ভারসাম্যহীন মানুষের গায়ে হাত দিয়ে ধরে সেবা করছিলেন পুলিশ সদস্য। চিকিৎসা দেওয়ার সময় চিকিৎসককেও সহযোগিতা করলেন। খাওয়া ব্যবস্থা করলেন। আমার মতো অনেকেই এ দৃশ্য দেখে হতবাক হয়েছেন। সচারাচর এমনটি দেখা যায় না।
ঘটনাটি ঘটেছে, বৃহস্পতিবার (১৯ মে) বিকাল ৩টায় ঈশ্বরদী আমবাগান পুলিশ ফাঁড়ির মাঠের সামনের সড়কে। পুলিশ সদস্যের নাম দেলোয়ার হোসেন। সে শহরের আমবাগান পুলিশ ফাঁড়ির সদস্য (কন্সটেবল)।

চিকিৎসক সাইফুল ইসলাম বলেন, মানসিক ভারসাম্যহীন যুবকটির পায়ের পাতা কাঁচ অথবা শামুকে কেটেছে। খালি পায়ে হাটার কারণে পায়ের মধ্যে ময়লা ঢুকে পঁচন ধরেছে। পুলিশ সদস্য দেলোয়ার হোসেন আমাকে ডেকে নিয়ে চিকিৎসা দিতে বলেন, পা পরিস্কার করে ব্যান্ডেজ করে দিয়েছি। ঔষধও দিয়েছি। ভারসাম্যহীন যুবকটি বেশ কয়েকদিন ধরে এ এলাকাতেই রয়েছেন। নিয়মিত তাঁকে ঔষধ খাওয়াতে পারলে সে হয়তো সুস্থ হয়ে যাবে। পুলিশ সদস্য দেলোয়ার এ তাকে চিকিৎসার ব্যবস্থা করলেন এটি দেখে আমি সত্যই হতবাক হয়েছি। পুলিশ সম্পর্কে সাধারণ মানুষের নেতিবাচক ধারণা। অনেক পুলিশ সদস্য রয়েছেন যারা মানবতার সেবায় নিজেদের সবসময়ই নিয়োজিত রাখেন।

পুলিশ সদস্য দেলোয়ার হোসেন বলেন, গাছের নিচে শুয়ে ভারসাম্যহীন যুবকটি যেভাবে কাতরাচ্ছিল দেখে খুবই মায়া লাগছিল। তাই তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছি। ভারসাম্যহীন হলেও তারা তো মানুষ। ওদের শরীরের ব্যাথা বেদনা রয়েছে।