ঈশ্বরদীর ফিলিং স্টেশনগুলো থেকে পেট্রল ও অকটেন উধাও হয়ে গেছে। গতকাল শনিবার থেকে উপজেলার সব ফিলিং স্টেশনে পেট্রল ও অকটেন নেই বলে জানিয়ে দেয়া হচ্ছে।
তবে পেট্রল ও অকটেন পাওয়া যাচ্ছে খোলা বাজারে অতিরিক্ত দামে। এ অবস্থায় গ্রাহকদের মধ্যে ােভের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের অভিযোগ, সংকট দেখিয়ে পেট্রল নিয়েও কারসাজি করছে ফিলিং স্টেশনগুলো।
ঈশ্বরদী শহরের থানা সংলগ্ন, রেলগেট, দাশুড়িয়া, মুলাডুলি, রূপপুর মোড়সহ বিভিন্ন স্থানে খোলা বাজারে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা দরে পেট্রল বিক্রি হচ্ছে। অথচ পেট্রলের নির্ধারিত মূল্য ৮৭ টাকা লিটার।
শহরের বিভিন্ন পাম্প ঘুরে দেখা গেছে, পেট্রল দেওয়ার মেশিনের সামনে ‘পেট্রল ও অকটেন নেই’ লেখা কাগজ ঝুলছে। শহরের মুন ফিলিং স্টেশন ও জয়নগরের খায়রুল ফিলিং স্টেশনের কর্মচারীরা বলছেন পেট্রল ফুরিয়ে গেছে।
কেন এমন অবস্থা তৈরি হয়েছে জানতে চাইলে খায়রুল ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মামুন জানান, ‘তেলের প্রধান ডিপো থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে পেট্রল ও অকটেন নেই। তাই আমরাও তেল বিক্রি করতে পারছি না। শনিবার সন্ধ্যায় পেট্রল বিক্রি শেষ হয়েছে। এজন্য ‘পেট্রল ও অকটেন নেই’। তিনি বলেন, হাজার হাজার লিটার তেল বিক্রি হয়। এখন বিক্রি বন্ধ। ক্রেতাদের ফিরিয়ে দিতে হচ্ছে। যদিও নানা ধরনের কথা শুনতে হচ্ছে আমাদের।’
শহরের মোটরসাইকেল চালক সুরঞ্জন বলেন, ‘আমি মার্কেটিং চাকরি করি। মোটরসাইকেল ছাড়া চলতে পারি না। কিন্তু কোনও পাম্পে পেট্রল পাচ্ছি না। এখন মনে হচ্ছে, পেট্রলের দাম বাড়ানো হবে।
মোটরসাইকেল চালক শহিদুল ইসলাম বলেন, কোন পাম্পে তেল নেই। তবে দু’চার জায়গায় খোলা বাজারে তেল বিক্রি হচ্ছে। দাম নেয়া হচ্ছে ইচ্ছা মতো ১০০ থেকে শুরু করে ১৫০ টাকা পর্যন্ত দামে পেট্রল ঈশ্বরদীতে বিক্রি হচ্ছে। কিছু করার নেই। প্রয়োজন তাই কিনতেই হচ্ছে।
ঈশ্বরদী শহরের থানা সংলগ্ন করিম পেট্রোলিয়াম এজেন্সির মালিক বলেন, আমরা প্রতি লিটার তেল ১০০ টাকা করে বিক্রি করছি। তেলের সংকট। আমরা বেশি দামে কিনেছি তাই বেশি দামে বিক্রি করছি। শুনেছি অন্যত্র আরো বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।
খায়রুল ফিলিং স্টেশনের স্বত্বাধিকারী খায়রুল ইসলাম বলেন, বাঘাবাড়ি ডিপো থেকে চাহিদা অনুযায়ী পেট্রোল দেয়া হচ্ছে না। আমি ১০ হাজার লিটার পেট্রোল তেলের চাহিদা দিয়েছিলাম কিন্তু আমাকে দেয়া হয়েছে মাত্র ৩ হাজার। গতকাল শনিবার সে পেট্রোল শেষ হয়ে গেছে।
