ঢাকায় ডায়রিয়ার প্রকোপ নিয়ে আলোচনা হয়েছে মন্ত্রিসভা বৈঠকে। আগামী ১৫ মে’র মধ্যে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা বাংলাদেশকে ৭৫ লাখ কলেরার টিকা দিচ্ছে বলেও উঠে এসেছে আলোচনায়।
বৃহস্পতিবার (২৮ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে তার কার্যালয়ে মন্ত্রিসভা বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ‘মন্ত্রিসভা বৈঠকে নির্ধারিত আলোচনার বাইরে কয়েকটি বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে বর্তমান কলেরা সিনারিও নিয়ে খুবই আলাপ-আলোচনা হয়েছে। এটা কেন হলো, এটা আমিও ব্যক্তিগতভাবে ১০ থেকে ১২ দিন ধরে ট্র্যাক করছি। আইসিডিডিআরবি, আইইডিসিআর, ডিজি হেলথ তারপর ওয়াসা, তাদের সাথে আমি পার্সোনালি কথা বলেছি। মেইনলি আমরা যেটা দেখলাম, ঢাকাতে গত ২০ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে সম্ভবত এ রকম ডায়রিয়ার প্রকোপ দেখা যায়নি।’
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘এটা মেইনলি হতো ডাউনে, যখন ড্রাই সিজনে পানির খুব অভাব হয় তখন বরিশালের উপকূলীয় এলাকায় ডায়রিয়া হতো। এখানেও হয়েছে, এর কয়েকটি কারণ আমরা খুঁজে বের করেছি। বিষয়গুলো কেবিনেটেও আলোচনা হয়েছে। আমরা চেক করে দেখলাম, ওয়াসা যে পানি দেয়, সোর্সে কোথাও ব্যাকটেরিয়া নেই। কোনো সোর্সেই ব্যাকটেরিয়া নেই।’
‘পানিটা আসছে অনেক জায়গায় লিক আছে, এখন মানুষ কী করছে, লাইন নিজেরা কেটে পাম্প বসিয়ে পানি টেনে নিয়ে আসছে। এখন যেখানে কাটছে সেখানে তো লিক থেকে যাচ্ছে। সেখান দিয়ে ব্যাকটেরিয়া প্রবেশ করছে। এটা অন্যতম একটা কারণ।’
খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘অলমোস্ট সব জায়গাতেই এটা (ডায়রিয়া) হয়েছে। কয়েকটি জায়গায় এবার একটু বেশি হলো। আরেকটি বিষয় যেটা বিশেষজ্ঞরা আমাদের বলেছেন, কয়েকটি জায়গায় তারা পানি টেস্ট করে দেখেছেন, ক্লোরিন কম আছে। এটাও এই পরিস্থিতির একটি বড় কারণ। এটা সাথে সাথে ওয়াসাকে পয়েন্ট আউট করার ফলে তারা গিয়ে ক্লোরিন বাড়িয়েছে, এটা এখন ঠিক হয়ে গিয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ডব্লিউএইচও (বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা) ৭ দশমিক ৫ মিলিয়ন (৭৫ লাখ) কলেরা ভ্যাকসিন দেবে। এটার দুটো ডোজ নিলে ৩ বছর পর্যন্ত কলেরা বা ডায়রিয়া থেকে নিরাপদ থাকা যাবে। এটা মে মাসের ১০ থেকে ১৫ তারিখের মধ্যে চলে আসবে।’
‘আরেকটি বিষয় প্রধানমন্ত্রী রিকোয়েস্ট করেছেন, মানুষ ট্যাংকগুলো পরিষ্কার করে না। এই রিজার্ভারগুলো ৩ মাস বা ৬ মাস পর পরিস্কার না করলে ব্যাকটেরিয়া ডেভেলপ করবে। এটাও একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। সবাইকে একটু মোটিভেট করতে হবে। ওয়াসাকে বলা হয়েছে, আমরা পিআইডিকেও বলে দিচ্ছি, তারা এখন থেকেই ম্যাসিভ প্রোমোশন ক্যাম্পেইন করবে।’
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘আমাদেরকে সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার থেকে জানানো হয়েছে, তোমাদের লোকজন যারা আসে, তাদের অনেকের মধ্যে আমরা ডায়রিয়ার জীবাণু পাচ্ছি। গ্রামের পানিতে কিন্তু ব্যাকটেরিয়া নেই। আমাদের টেকনিক্যাল লোকজন যেটা বলছে, যারা বিদেশে যান তারা এয়ারপোর্টের আশেপাশে ২/৩ দিন থাকেন, ছোটখাটো হোটেলগুলোতে। আমরা গত ১০ থেকে ১২ দিন ধরে…এরইমধ্যে ইন্সট্রাকশন দিয়ে দিয়েছি, এখন তারা অপারেশন চালাচ্ছেন। ওয়াসার টিম গিয়ে দেখছে, হোটেলের পানিগুলো কেমন।’
‘আক্রান্তের একটি বড় অংশ কিন্তু যারা বাহিরে খায়, মেসে খায়, তারই বেশি এফেকটেড হচ্ছে। বাসার লোকেরা কম এফেকটেড হচ্ছে’ বলেন খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।
