ঈশ্বরদীতে শয়ন কক্ষে নিজের শরীরে আগুন লাগিয়ে সামিনা (৪০) নামে এক গৃহবধু আত্মহত্যা করেছেন। মঙ্গলবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের চরমিরকামারী দাঁইড়পাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। সামিনা ওই গ্রামের মোঃ সিদ্দিকের স্ত্রী। সামিনার স্বজনরা জানান, সে মানসিক ভারসাম্যহীন ছিল।
পারিবারিকভাবে জানা যায়, প্রায় ১৭ বছর আগে চরমিরকামারী দাইড়পাড়া এলাকার আতিয়ার মালিথার ছেলে মোঃ সিদ্দিকের সঙ্গে দাশুড়িয়া ইউনিয়নের সরইকান্দি এলাকার মমিন কাজীর মেয়ে সামিনার বিয়ে হয়। বিয়ের সময় সামিনা মানসিক অবস্থা স্বাভাবিক থাকলেও প্রায় ৮/১০ বছর যাবত সে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন।
প্রতিবেশী ইসহাক আলী দেওয়ান বলেন, অসুস্থ বউয়ের চিকিৎসার খরচ জোগাতে নিঃস্ব হয়েছেন সিদ্দিক। পরে এলাকাবাসীর নিকট থেকে সাহায্য চেয়ে স্ত্রীকে চিকিৎসা করে আসছিলেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য সেন্টু মালিথা বলেন, মৃত সামিনার মানুষিক অবস্থা এতটাই খারাপ ছিলো যে প্রায় প্রতিদিনই সে নানা ভাবে আত্মহত্যা করতে যেত। গতকাল সন্ধ্যায়ও গলায় দঁড়ি দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিল। আজ নিজেই নিজের শরীরে আগুন দিয়ে আত্মহত্যা করেন।
সামিনার মা বলেন, আমার মেয়ে মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পরার পর বহু জায়গায় চিকিৎসা করিয়েছি। কিন্তু সে সুস্থ হয়নি। এভাবে নিজের গায়ে আগুন লাগিয়ে মারা যাবে ভাবতেই পারিনি।
ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আসাদুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, চিকিৎসার কাগজপত্র দেখে আমরা জেনেছি সামিনা মানসিকভাবে অসুস্থ ছিল।
