অনুকূল আবহাওয়া ও উচ্চ ফলনশীল জাতের গম আবাদের ফলে চলতি মৌসুমে ঈশ্বরদীতে গমের ভাল ফলনের আশা করছেন কৃষক ও কৃষিবিভাগ। রবি শস্যের মধ্যে অন্যতম লাভজনক আবাদ হচ্ছে গম। আর মাত্রকয়েকদিন পরই শুরু হবে গম কাটা-মাড়াইয়ের কাজ। বাজারে ভাল দামথাকায় লাভবান হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন চাষিরা।উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর উপজেলায়১,৯০০ হেক্টর জমিতে গমের আবাদ হয়েছে।
উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরাহয়েছে প্রতি হেক্টরে ৩ দশমিক ৫৪ মেট্রিক টন। অনুকূল আবহাওয়া,সঠিক মাত্রায় সার প্রয়োগ এবং কৃষি বিভাগের সঠিক তদারকি,পরামর্শ, বাড়তি পরিচর্যা ও গম বপনের পর কয়েক দফায় বৃষ্টি হওয়ায়অধিকাংশ জমিতেই এবারে সেচের দরকার হয়নি ।
তাছাড়া গম ক্ষেতেকোন রোগ-বালাইও ছিল না। এতে কৃষকদের সেচ খরচ সাশ্রয় হওয়ায়উৎপাদন খরচ অনেক কম হয়েছে বলে কৃষকরা জানিয়েছেন। তাছাড়াবিগত কয়েক বছরের তুলনায় এবারে অধিকাংশ জমিতে কৃষকরা উচ্চফলনশীল জাত প্রদীপ, বারি-২৬, ২৮, ২৯, ৩০,৩১,৩২ ও ৩৩ জাতের গমেরআবাদ করেছেন। তাই এবার গমের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখছেনকৃষক ও কৃষি বিভাগ।উপজেলার মুলাডুলি, দাশুড়িয়া, সাঁড়া ইউনিয়নে ও পদ্মার চরবিলবামনিতে গমের আবাদ বেশি হয়েছে।
সরেজমিনে এসকল এলাকায়গিয়ে মাঠের দিকে তাকালে দেখা যায়, গমের কাঁচা-পাকা শীষবাতাসে দোল খাচ্ছে। প্রতিটি শীষ অনেক বড় হয়েছে এবং শীষেবিগত সময়ের চেয়ে এবার গমের দানা খুব ভালো হয়েছে। কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, আবহাওয়া যদি শেষ সময়পর্যন্ত ভালো থাকে তাহলে ভালো ভাবে কাটা-মাড়াই করে গম ঘরেতুলতে পারবেন এবং বর্তমান বাজার ভালো থাকায় চাষিরা লাভবানহবেন। সাঁড়া ইউনিয়নের পদ্মার চর বিলবামনি মৌজায় ৮ বিঘাজমিতে উচ্চ ফলনশীল বারি- ৩০ ও ৩২ জাতের গমের আবাদ করেছেনগোপালপুর গ্রামের জার্মান আলী। তিনি বলেন, গম চাষে বীজ, সারও সেচ দিতে হয়।
এবার গম বপনের পর কয়েক দফা বৃষ্টিতে তার জমিতেপানি দিতে হয়নি। ফলে উৎপাদন খরচ খুব কম হয়েছে। গমের শীষেরআকার ও দানার সংখ্য দেখে মনে হচ্ছে প্রাকৃতিক বিপর্যয় নাঘটলে গমের বাম্পার ফলন হবে এবং বিঘা প্রতি ১০-১২ মণ গমপাবেন। উপজেলার আড়মবাড়িয়া বøকের গোপালপুর গ্রামের কৃষক ওসাংবাদিক অধ্যাপক আলমাস আলীর উচ্চ
ফলনশীল বারি- ৩৩ জাতের গমের প্রদর্শনী প্লট রবিবার বিকেলেপরিদর্শন করেন পাবনা খামারবাড়ি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মিজানুর রহমান, অতিরিক্ত উপ-পরিচালক আব্দুল লতিফ,রোকুনজামান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মিতা সরকার। গমের শীষেরআকার ও দানার পরিমান বেশি দেখে গমের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনাদেখছেন এবং উপজেলায় গমের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে তারাজানান।উপজেলার সাড়া ইউনিয়নের কৃষক বাসিদুল ইসলাম ডুমনা কাজীবলেন, এবারে তিনি বারি-৩০, ৩২,৩৩ জাতের গম আবাদ করেছেন।গমের জন্য আবহাওয়া অনুকুলে ছিল, তাই ভালো ফলন আশা করছেন।আড়মবাড়িয়া বøকের উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা
জাহিদহোসেন হিরোক বলেন, গমে সেচ দেওয়ার সময় বৃষ্টি হওয়ায় কৃষকদেরসেচ কম দিতে হয়েছে। এতে উৎপাদন খরচ কম হয়েছে। এতে কৃষকরালাভবান হচ্ছে।উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মিতা সরকার বলেন, এবছর উচ্চফলনশীল জাতের গমের আবাদ বেশি হওয়ায় এবং আবহাওয়া অনুক‚লেথাকায় গমের ভালো ফলনের আশা করছেন। বিশেষ করে উপজেলায় বস্টরোগ প্রতিরোধী জিংক সমৃদ্ধ বারি-৩৩ জাতের গমের ২০০ হেক্টরজমিতে আবাদ হয়েছে। এই জাতটির শীষ লম্বা এবং শীষে দানারসংখ্যা বেশি হওয়ায় ফলন ভালো পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।বাজার দর ভালো থাকায় এবার লাভবান হবেন গম চাষিরা।
