ঢাকাশুক্রবার , ২৮ জানুয়ারি ২০২২
  • অন্যান্য

পাকশী নদী ঘাটের চাঁদা তুলেন এক মাদক ব্যবসায়ী

নিজস্ব প্রতিবেদক
জানুয়ারি ২৮, ২০২২ ৬:৩৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ঈশ্বরদী উপজেলার পশ্চিম প্রান্ত দিয়ে বয়ে গেছে পদ্মা নদী। এক পাকশী লালন শাহ্ সেতু ছাড়া সড়ক পথে নেই কোনো যোগাযোগ ব্যবস্থা। দৈনন্দিন কাজের জন্য তাই অনেক সময় নৌ পথেই যাতায়াত করতে হয় সাধারন মানুষকে। উপজেলার সাড়া ইউনিয়ন থেকে শুরু করে লক্ষীকু্ন্ডা ইউনিয়ন পর্যন্ত রয়েছে কয়েকটা ঘাট। প্রতিদিন জীবিকা নির্বাহের তাগিদে তাই এখানকার বেশ কিছু মানুষ নৌকায় মানুষ ও মালামাল পারাপার করে থাকেন।

উপজেলার পাকশী ইউনিয়নের পুরাতন (৮নং ঘাট নামে পরিচিত) ঘাটে পালাক্রমে প্রতিদিন চলে ১০ টি নৌকা। আর এই অর্থ দিয়েই চলে ১০ টি পরিবার।
তবে এমনি এমনি চলে না এসব নৌকা। তার জন্য প্রতি সপ্তাহে গুনতে হয় ১০০ টাকা হারে চাঁদা। তা না হলে মেলে না নৌকা চালানোর অনুমতি।

তবে কে নেয় এসব চাঁদা। কেই বা অনুমতি দেন নৌকা চালানোর এসব তথ্য খুজতে গিয়ে জানা যায়, এর মুলহোতা শাম নামের এক ব্যাক্তি।
পাকশী হঠাৎপাড়া এলাকার বাসিন্দারা জানান, শাম ঐ এলাকায় মাদক সম্রাট ও পাকশী পুলিশ ফাঁড়ির বিশ্বস্ত সোর্স হিসেবে ব্যাপকভাবে পরিচিত। করেন গাজা হিরোইন ও ফেন্সিডিলের ব্যবসা। নিজের নামে কয়েকটি মাদক মামলা হওয়ার সুবাদে পুলিশের বিশ্বস্ত সোর্স হিসেবে নিজেকে পরিচয় দেন।

ভুক্তভোগী ঐসব অসহায় গরিব নৌকার মাঝি জানান, কখনো পুলিশের সোর্স আবার কখনো প্রভাবশালী এক নেতার নাম ভাঙ্গিয়ে সপ্তাহে প্রতি নৌকার জন্য ১০০ টাকা হারে চাঁদা নির্ধারন করে দিয়েছে শাম। ১০ টা নৌকার জন্য সপ্তাহে তোলেন ১০০০ টাকা আর মাসে ৪০০০ টাকার মতো। ভয়ে মুখ খুলতে চান না এসব নৌকার মাঝি। বলেন, এতে নৌকা চালানো বন্ধ করে দিবে শাম নামের ঐ মাদক সম্রাট।
এ বিষয়ে জানতে শামের সাথে যোগাযোগ করা হলে প্রথমে চাঁদা তোলার বিষয়টি অস্বীকার করেন। তথ্য প্রমান উপস্থাপন করলে পরবর্তীতে স্বীকার করেন চাঁদাবাজির কথা। বলেন এক প্রভাবশালী নেতার নামে নাকি ঘাটের ইজারা নেওয়া, তাই নিয়মিত চাঁদা তোলেন তিনি। অবশ্য প্রভাবশালী সেই নেতাকে একাধিকবার মুঠোফোনে ফোন দিয়েও যোগাযোগ করা সম্ভব হয় নি।